হুমকির মুখে যশোরের নওয়াপাড়া নৌবন্দর

যশোরের অভায়নগরে নওয়াপাড়া নৌবন্দরে নাব্য সংকটে কারণে বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা আজ হুমকি মুখে। এতে বছরে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার নৌবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত খনন করে নওয়াপড়া ভৈরব নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি ব্যবসায়ীদের।
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র যশোরের নওয়াপাড়া নৌবন্দর। নৌপথের সঙ্গে রেল ও সড়ক যোগাযোগের সুবিধার কারণে পণ্য আনা-নেওয়ায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহের কেন্দ্র ছিল এ বন্দরটি। এখানে সমুদ্র পথে আসা পণ্য লাইটারেজ জাহাজে ভৈরব নদ হয়ে এই বন্দরে খালাস হয়। এ ছাড়া এখান থেকে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে যশোর-খুলনা মহাসড়ক ও রেলপথ। এত সুবিধার পরও বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় ব্যবহারকারীরা।
নওয়াপাড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে বন্দর চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্টে পলি জমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিঘ্ন ঘটছে নৌযান চলাচলে।
নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৈরব নদের নাব্যতা সংকট কোনো হঠাৎ ঘটনা নয়। এটি বছরের পর বছর অপরিকল্পিত ড্রেজিং, অনিয়ম ও অবহেলার ফল। প্রয়োজন অনুযায়ী ধারাবাহিক খনন না হওয়ায় প্রতিবার বর্ষা শেষে পলি জমে নদী আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছেন, কয়লা, সার, খাদ্যশস্য ও পাথর আমদানির বিশাল বাজারে বছরে লেনদেন গড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা। আমদানি করা সার ও কয়লার বেশিরভাগই খালাস হয় এই বন্দরে। কিন্তু ড্রেজিংয়ের নামে মাঝে মাঝে কাজ শুরু হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে খনন করা পলি নদীর পাশেই ফেলা হয়, যা কয়েক মাসের মধ্যেই আবার নদীতে ফিরে আসে।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় বন্দরে ভিড়তে পারছে না পণ্যবাহী জাহাজ। বন্দর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে জোয়ারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে নৌযানগুলোকে।
নওয়াপাড়া ব্যবসায়ী নূর আলম পাটোয়ারী বলেন, নাব্যতা কমে যাওয়ায় পণ্যবাহী কার্গো জাহাজগুলো ভাটার সময় বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না। নাব্যতা সংকটের সমাধান না হলে নওয়াপাড়ার ব্যবসা বাণিজ্য হারিয়ে যাবে। পথে বসবে শত শত ব্যবসায়ী।
নওয়াপাড়া সার ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক মুজিবর রহমান বলেন, নওয়াপাড়া নৌবন্দর দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নৌ, সড়কও রেলপথের সুবিধার থাকায় বছরে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার কয়লা, সার, খাদ্যশস্য ও পাথরসহ নানা আমদানিকৃত পণ্য এখানে খালাস হয়। কিন্তু নদের বিভিন্ন স্থানে পলি জমে নাব্যতা হারাচ্ছে ভৈরব।
নওয়াপাড়া বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, ভৈরব নদের ওপারে সেতুর নির্মাণের পর থেকে পলি জমা প্রকট আকারে ধারণ করেছে। এর আগে এত ড্রেজিং কাজ করা লাগত না।