এক উঠানে চার খাটিয়া, এমন দৃশ্য কখনও দেখেননি ভাটিপাড়াবাসী

একটি উঠানে পাশাপাশি রাখা চারটি খাটিয়া। একটি মায়ের জন্য, একটি ছেলের জন্য ও অন্য দুটি মেয়ে ও নাতির জন্য। চারদিকে প্রতিবেশীদের ভিড় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। যে বাড়িতে একসঙ্গে ছিলেন মা, ছেলে, মেয়ে ও নাতি; সেই বাড়িতে এখন চারজনের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি। এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেনি জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মানুষ।
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ জামালপুরের ছয়জন নিহত হওয়ার পর শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে তাদের দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
গ্রামের বাড়িতে চারটি মসজিদ থেকে চারটি খাটিয়া এনে পাশাপাশি রাখা হয়। সেই দৃশ্য দেখতে সকাল থেকে ভিড় করেন গ্রামের শত শত মানুষ।
নিহতরা হলেন দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তার মা রাশিদা বেগম, মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা মর্জিনা ও মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সি ছেলে মিনাল।
দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী এবং বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী।
স্বজনরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু গাজীপুরে বসবাস করতেন। মা রাশিদা বেগম, মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনালকে নিয়ে গাজীপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে রওনা হন। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তারা।

শনিবার সকালে ভাটিপাড়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে পাশাপাশি রাখা চারটি খাটিয়াকে ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্বজনরা। কেউ খাটিয়ার পাশে বসে নির্বাক, কেউ বারবার অচেতন হয়ে পড়ছেন। বাড়িতে জড়ো হয়েছেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, আমার বয়স ৬০ বছরের বেশি। এই গ্রামে অনেক ঘটনা দেখছি, অনেক মানুষের জানাজায় গেছি। কিন্তু এক বাড়ির উঠানে মা, ছেলে, মেয়ে ও নাতির জন্য একসঙ্গে চারটা খাটিয়া রাখা হবে এমন দৃশ্য জীবনে দেখিনি। সকাল থেকে মানুষের কান্না থামতেছে না।
প্রতিবেশী জাহিদুল ইসলাম বলেন, গতকালও মানুষগুলা ভালো ছিল, পরিবারের সবাই একসঙ্গে ছিল। আজকে তাদের জন্য চারটি খাটিয়া সাজানো হইছে। এই দৃশ্য দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। এমন শোকের ঘটনা ভাটিপাড়ার মানুষ আগে কখনও দেখেনি।
মো. আজাদ নামে আরেকজন বলেন, আগে টেলিভিশনে দেখতাম, একই পরিবারের পাঁচ-সাতজন মারা গেছেন। নিজের এলাকায় এমন ঘটনা ঘটল। সত্যিই কষ্টের। আমরা পুরো এলাকাবাসী শোকে স্তব্ধ। আমার বলার ভাষা নেই।
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, পরিবারটির জন্য বিআরটিএর মাধ্যমে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। তারা একই পরিবারের হলেও প্রত্যেকের জন্য আলাদা সহায়তা হবে। আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য বিআরটিএর নির্দিষ্ট ফর্ম বা ছক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন সঠিকভাবে আবেদন করতে পারে, সেজন্য বিআরটিএর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। আমাদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করব।
-332ef7.jpg)