logo

সজলের গ্রেপ্তারের নেপথ্যে কী, পুলিশ-এনসিপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

সজলের গ্রেপ্তারের নেপথ্যে কী, পুলিশ-এনসিপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
এনসিপি নেতা আশরাফুল ইসলাম সজল। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে এনসিপি নেতা আশরাফুল ইসলাম সজলকে (২৬)। উপজেলার বরামা গ্রামের ইমতিয়াজ উদ্দিনের ছেলে সজল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রীপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

তার পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য ও গালাগালি করে পোস্ট দেওয়ায় সজলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই যুবক জাতীয় নাগরিক পার্টি শ্রীপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রোববার কোনো এক সময় গ্রেপ্তারের আগে সজল স্ট্যাটাসটি দেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার জন্য নয়, বরং সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা একটি মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত সজলের ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তার আইডিতে (MD. Ashraful Islam) গিয়ে সেই স্ট্যাটাসটি পাওয়া যায়নি। তার দেওয়া ফেসবুক পোস্টের ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে দাবি করে বর্তমান সরকার ও সরকার প্রধানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়। ওই স্ক্রিনশটে পল্লীবিদ্যুতের একটি বিলের অনলাইন কপিও শেয়ার করা হয়।

আশরাফুল ইসলাম সজলের মা আসমা আক্তার বলেন, আমার ছেলে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসা নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিল। ছেলে আমার সহজ-সরল, তাই ভুল করে ফেলেছে। অনেকেই এই পোস্ট ডিলিট করতে বলেছে। এরপর আমার ছেলে পোস্ট ডিলিটও করে দেয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় মূখ্য সংগঠক বলেন, আশরাফুল ইসলাম সজল জুলাই যোদ্ধা। এনসিপির গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সক্রিয় ছিল, এটা তার ফেসবুক দেখলেই পরিষ্কার। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গালি দিয়ে সমালোচনা করার অজুহাতে সজলকে আওয়ামী লীগ বানিয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মামলা দিয়েছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। সমালোচনা করলেই আওয়ামী লীগ বানিয়ে দিচ্ছে। আগে যেমন জামায়াত শিবির বানিয়ে দেওয়া হতো। পুরোনো চুলকানি আবার তাজা হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য না, বরং আমরা তাকে গ্রেপ্তারের অনেক পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখেছি।