logo

পরিকল্পনা ছিল জীবন বাঁচানো, বাস্তবে পরিত্যক্ত ভবন

পরিকল্পনা ছিল জীবন বাঁচানো, বাস্তবে পরিত্যক্ত ভবন

যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়ক দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ। সর্বশেষ গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নলকা এলাকায় ময়মনসিংহগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় পড়ে ঘটনাস্থলেই চালকসহ তিনজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২৫ জন। তাদের কেউ চিকিৎসা নিয়েছেন বগুড়ায়, কেউ ঢাকায়, আবার কেউ সিরাজগঞ্জে। অথচ দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মুলিবাড়ীতে নির্মাণ করা হয়েছে ট্রমা সেন্টার। তবে কবে নাগাদ এই ট্রমা সেন্টারটি চালু হবে জানে না কেউই। 

২০১৮ সালে দেড় বিঘা জমির ওপর ট্রমা সেন্টারটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শেষ হলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও সেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনবল ও প্রয়োজনীয় মেডিসিনের অভাবে সেন্টারটি চালু করা যায়নি। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই সেন্টারে ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের জন্য ডরমিটরি বিল্ডিং, আধুনিকমানের অপারেশন থিয়েটার রুমসহ দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সর্বাধুনিক চিকিৎসার উপযোগী স্থাপনা রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ স্থাপনাটি সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে অনেক আগেই। অথচ নানা কারণে সেবাদান চালু করা যায়নি আজও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যবহার না থাকায় ট্রমা সেন্টারের অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি চুরি হচ্ছে ভবনের মালামাল। কিছু ভবন খালি পড়ে থাকায় সেখানে মাদকের আসর বসাচ্ছে মাদকসেবীরা।

ট্রমা সেন্টারের নৈশপ্রহরী আমিরুল জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুর্বৃত্তরা তাকে বেঁধে রেখে ট্রান্সফরমারের তামা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে আবার চুরির চেষ্টা হলে একজনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। তবে এরপর থেকে তিনি হুমকির মুখে রয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ভবন নির্মাণ শেষে প্রায় পাঁচ বছর আগেই স্বাস্থ্য বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ট্রমা সেন্টারটি চালু না হওয়ায় ভবন অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, ভবনের মালামাল চুরি হচ্ছে বলে শুনেছি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ট্রমা সেন্টারটি চালুর বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি চালু করার জন্য জনবল ও প্রয়োজনীয় মেডিসিনের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, পেলেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা যাবে। তবে কবে নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি চালু হবে, তা এখন বলা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না থাকায় ট্রমা সেন্টারের অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, ভবনের মালামাল চুরি হচ্ছে। নিরাপত্তা প্রহরী থাকার পরও রক্ষা করা যাচ্ছে না মূল্যবান যন্ত্রপাতি।

যমুনা সেতুর পশ্চিমে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নাটোর জেলার বনপাড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার উত্তর সীমানায়ও প্রায় ৪০ কিলোমিটার চান্দাইকোনা এবং দক্ষিণের সীমানা ৬০ কিলোমিটার শাহজাদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মহাসড়ক সংলগ্ন মুলিবাড়ীতে ২০১৮ সালে দেড় বিঘা জায়গার ওপর নির্মাণকাজ শুরু হয় ট্রমা সেন্টারের। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। বাস্তবায়ন করে সিরাজগঞ্জ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)। ২০২১ সালের শুরুর দিকেই নির্মাণকাজ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ট্রমা সেন্টারটি হস্তান্তর করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রমা সেন্টার নির্মাণ অনেকটা অর্থহীন হয়ে পড়েছে।