প্রবাসজীবন ছেড়ে দুগ্ধ খামার, প্রতিদিন উৎপাদন ১৮০ লিটার দুধ

বাবার শখ পূরণ এবং নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসজীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরে দুগ্ধ খামারে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন ফেনীর বদর আমিন। ২০০৩ সালে সৌদি আরব ও কাতারে প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন তিনি। এরপর ২০২৩ সালে নিজের ৩০ শতাংশ জমিতে স্ত্রীর নামানুসারে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ফারজানা ডেইরি ফার্ম’। তবে খামার পরিচালনা করতে গিয়ে পদে পদে নানা সংকট ও বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়লেও হাল ছাড়েননি তিনি।
খামারের শুরুটা আমিনের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রথমদিকে পশু মোটাতাজাকরণ ও মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে গবাদিপশু পালন শুরু করলেও অভিজ্ঞতার অভাবে তাকে প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়। পরবর্তীতে অভিজ্ঞ রাখাল ফারুকের পরামর্শে মাংস উৎপাদনের পরিবর্তে দুধ উৎপাদনের (দুগ্ধ খামার) দিকে মনোযোগ দেন তিনি।
তবে সংকট এখানেই শেষ হয়নি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ভয়াবহ বন্যার কারণে খামারটি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। বদর আমিন জানান, সরকার পতনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে টানা তিন মাস খামারের দুধ বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে যোগ হয় বন্যার প্রকোপ। বন্যার পানিতে তার খামারের ৯টি বাছুর মারা যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।

এত প্রতিকূলতার পরও থেমে যাননি বদর আমিন। বর্তমানে তার ফারজানা ডেইরি ফার্মে মোট ৩০টি গরু রয়েছে। এসব গরু থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৮০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। খামার পরিচালনায় তার সঙ্গে কর্মরত রয়েছেন তিনজন রাখাল। তাদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
খামার পরিচালনা করতে গিয়ে বর্তমান সময়ের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে দুই সন্তানের বাবা বদর আমিন বলেন, দুগ্ধ খামার খাতে সরকারের নজরদারি একেবারেই কম। পশুখাদ্যের বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে উৎপাদিত দুধের বিক্রয়মূল্যের কোনো সামঞ্জস্য নেই। অতিরিক্ত খাদ্য খরচ ও বিদ্যুৎ বিলের কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া ফেনীতে উৎপাদিত দুধ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি বা সুসংগঠিত সেলস সেন্টার নেই। কোনো ব্যাংক ঋণ ছাড়াই নিজের জমানো পুঁজিতে এই পথ চলছি।
তিনি আরও জানান, খামারের গরুগুলোর প্রতি তার গভীর মায়া ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। এই ভালোবাসাই তাকে সব ক্ষতি ভুলে প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করার প্রেরণা জোগায়।
তরুণ এই উদ্যোক্তার দাবি, খামার খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারকে দ্রুত পশুখাদ্যের দাম কমাতে হবে। পাশাপাশি খামারিদের উৎপাদিত দুধ বাজারজাতকরণের জন্য নির্দিষ্ট সেলস সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং সহজ শর্তে সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।
