Advertisement

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এলাকায় ব্যাটারির কারণে বন্ধ হাসপাতালের সেবা

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এলাকায় ব্যাটারির কারণে বন্ধ হাসপাতালের সেবা
শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফটক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের নিজ সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র জেনারেটরটি একজোড়া ব্যাটারির অভাবে দীর্ঘ দুই বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে লোডশেডিং শুরু হলেই অপারেশন থিয়েটার ও প্যাথলজিসহ জরুরি সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকলে হাসপাতালজুড়ে এক ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে জেনারেটরটি অব্যবহৃত অবস্থায় বাক্সবন্দি ছিল। ২০২০ সালে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আমিনুল ইসলাম খান এটি চালুর উদ্যোগ নেন। তবে তিনি বদলি হয়ে যাওয়ার পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দুই বছর আগে জেনারেটরটি ফের অচল হয়ে পড়ে।

চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নিজের নির্বাচনি এলাকার হাসপাতালেই যদি একজোড়া ব্যাটারির অভাবে সেবা ব্যাহত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

হাসপাতালের জুনিয়র মেকানিক আনোয়ার হোসেন বলেন, দুই বছর ধরে জেনারেটরটি নষ্ট। নতুন একজোড়া ব্যাটারি পেলেই এটি পুনরায় চালু করা সম্ভব।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাসুদ রানা এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই জেনারেটরটি অচল দেখছি। পুরোনো ব্যাটারিগুলো মেরামত করেও বেশিদিন চালানো যায়নি। লোডশেডিংয়ের সময় বিশেষ করে অপারেশনের মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। তখন বিদ্যুৎ বিভাগে ফোন দিয়ে অনুরোধ করে বিদ্যুৎ এনে অস্ত্রোপচার শেষ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, জেনারেটর ব্যাটারির বরাদ্দের বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও দীর্ঘদিনেও কোনো বরাদ্দ মেলেনি।

এ বিষয়ে জানতে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সাড়া না পাওয়ায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।