নারী ভিক্ষুককে মারধরের পর মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে ভিক্ষাবৃত্তির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা চাইতে গেলে ইয়াসিন নূর রিপনি নামে এক নারী ভিক্ষুককে মারধর এবং তার শরীরে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাসিরখাজা মাঝির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় ভুক্তভোগী রিপনি সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রিপনীর স্বামী নেই। এক ছেলে রয়েছে। সে মহিষ ছড়াতে গিয়ে মেঘনার চরেই থাকে। অসহায় রিপনি ভিক্ষাবৃত্তি করেই চলে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। ভিক্ষা করে তিনি যা আয় করতেন সবই তার ভাইয়ের সহধর্মীনি খাদিজা ও সুরভি নিয়ে যেতেন। সম্প্রতি টাকা নিয়ে রিপনির সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়। বুধবার সকালে ভিক্ষাবৃত্তির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চাইতে গেলে খাদিজা ও সুরভী তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে তার শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিঁটিয়ে দেয়। রিপনিকে মারধরের সময় বাধা দিলে তার ভাই শুক্কুর আলীও মারধরের শিকার হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন মাঝি, মো. সুমন ও সজিব হোসেনসহ কয়েকজন জানায়, রিপনি অসহায় একজন নারী। তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তার ভাবিরা তাকে নির্যাতন করেছে। রিপনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ইয়াসিন নূর রিপনি বলেন, অনেক বছর ধরে আমি ভিক্ষা করি। আমার সব টাক খাদিজা আর সুরভি নিয়ে যেত। তারা আমার টাকা দিচ্ছে না। ওই টাকা চাইতে গেলে তারা আমাকে মেরে শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়।
অভিযুক্ত সুরভির স্বামী শুক্কুর আলী বলেন, রিপনিকে মারধরের সময় বাধা দিতে গেলে খাদিজা ও সুরভী আমার চোখেও মরিচের গুঁড়া দেয়।
রিপনির মা মাহমুদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ। মাঝে মাঝে গালাগালি করে। তাই হয়তো মারধর করেছে। কিন্তু মরিচের গুঁড়া দেওয়া ঠিক হয়নি।
অভিযুক্ত খাদিজা বেগমের স্বামী ইসমাইল মাঝি বলেন, আমার বোন রিপনি প্রায়ই ঝগড়া করে, তাই মারামারি হয়েছে। এসময় তার শরীরে মরিচের গুঁড়া দেওয়া হয়েছে। এটা ঠিক হয়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।