logo

৫ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, যাতায়াতে ঘুরতে হচ্ছে ১০ কিমি

৫ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, যাতায়াতে ঘুরতে হচ্ছে ১০ কিমি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাইশকুড়া-তেঁতুলতলা সড়কে ৩৭ মিটার দৈর্ঘ সেতু নির্মাণে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৬ টাকা বরাদ্দের সংযোগ সেতুর কাজ ১ বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৫ বছরেও সেতুটির কাজ শেষ হয়নি। ফলে ৭ থেকে ৮টি গ্রামের হাজারও মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। বিকল্প পথে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে যাতায়াত করায় যেমন বেড়েছে ভোগান্তি, তেমনি হচ্ছে অর্থের অপচয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার বাইশকুড়া বাজার থেকে তেঁতুলতলা সংযোগ সড়কের সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি ৫ বছরেও। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী শতশত যানবাহন ও কয়েকটি ইউনিয়েনের লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। ১০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে সেতু নির্মাণের কাজ পায় টিএন অ্যান্ড এএসআই লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এবং শেষ করার কথা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পারাপারের জন্য যে বিকল্প সাঁকো করা হয়েছে সেটিও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। নিরুপায় হয়ে শিশু ও বৃদ্ধরা পারাপারের সময় পড়ে আহত হয়েছেন অনেকে। 

এলাকাবাসীর দাবি বাইশকুড়া-তেঁতুলতলা সড়কের সংযোগ সেতুটির কাজ অতিদ্রুত শেষ করে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ লাগব করা হোক। সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বলেন ওইপারে স্কুল রয়েছে, ঠিকভাবে স্কুলে যেতে পারে না। পারাপারের জন্য একটি সাঁকো রয়েছে, সেই সাঁকোটাও ভাঙা। এপারে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র আছে, রোগী নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা যায় না। একটি রাস্তা রয়েছে, এই রাস্তাটি ভাঙা। বাজারে যাওয়া যায় না। গাড়ি এপার থেকে ওপারে নেওয়া যায় না, এ অবস্থায় আমাদের সংসার চলতে কষ্ট হয়। আমরা ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি। 

মঠবাড়িয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটির কাজ ২০২০ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ব্রিজটির ছাদ, বিম এবং এপ্রোচের কাজ বাকি আছে। ঠিকাদার হচ্ছে মঠবাড়িয়ার সাবেক মেয়র, তাকে অনেকবার লিখিত এবং মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তবে কিছু জটিলতার কারণে কাজটি শুরু করতে পারেনি। তবে প্রকল্প পরিচালক আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, দ্রুত কাজটি মেজারমেন্ট করে রি-টেন্ডার করবেন। আমরা মেজারমেন্ট করেছি এখন রি-টেন্ডারের আসায় আছি। রি-টেন্ডার হলে দ্রুত কাজটি সম্পন্ন হবে।