ফেনীতে জেলি পুশ করা ১০৫ কেজি চিংড়ি জব্দ, তিন আড়তকে জরিমানা

ফেনী পৌর মৎস্য আড়তে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ক্ষতিকর জেলি পুশ করা ১০৫ কেজি গলদা ও বাগদা চিংড়ি জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনটি মৎস্য আড়তকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে ফেনী সদর উপজেলা প্রশাসন এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। এতে নেতৃত্ব দেন ফেনী সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা আক্তার।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে ফেনী পৌর মৎস্য আড়তের ‘বেলাল ফিশিং’ থেকে ৫৬ কেজি, ‘আল্লাহর দান ফিশিং’ থেকে ২৪ কেজি এবং ‘এরফান ফিশিং’ থেকে ২৫ কেজি জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জব্দকৃত জেলিযুক্ত চিংড়িগুলো মাটির নিচে চাপা দিয়ে বিনষ্ট করা হয়। একই সঙ্গে অসাধু উপায়ে ওজন বৃদ্ধি ও প্রতারণার দায়ে বেলাল ফিশিংয়ের মালিককে ৫০ হাজার টাকা, আল্লাহর দান ফিশিংয়ের মালিককে ২০ হাজার টাকা এবং এরফান ফিশিংয়ের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ফেনী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহমিদা আক্তার জানান, জব্দকৃত জেলি মিশ্রিত মাছগুলো মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে অন্য আড়তদার ও সাধারণ ক্রেতাদের জেলি পুশ করা চিংড়ির চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি, কৃত্রিমভাবে ওজন বৃদ্ধি ও গ্রেড পরিবর্তন করে প্রতারণার বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে ফেনী সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মিরাজুল ইসলাম, পরশুরাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তফা জামান, জেলা মৎস্য দপ্তরের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, আড়ত সমিতির প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

