ধারের টাকা চাওয়ায় বোনকে হত্যা, মরদেহ পদ্মাপাড়ে ফেলে আসেন তিন বন্ধু

পার্লারে যাওয়ার জন্য ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় কথা-কাটাকাটির জেরে চাচাতো বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর দুই বন্ধুকে ডেকে একটি প্রাইভেটকারে মরদেহ পদ্মা নদীর তীরে ফেলে আসা হয়। এ ঘটনায় লাশ উদ্ধারের দিনই অভিযুক্তসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান। এর আগে সকাল ১০টার দিকে সদরের ভাঁড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকার পীরপুরের পদ্মা নদীর তীর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রিয়া খাতুন (১৫) ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের আজিজুল প্রামানিকের মেয়ে। সে জালালপুর কছিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইউনিয়নের পুর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. নাঈম, সহযোগী শফিক শেখের ছেলে মো. ইয়াসিন শেখ ও শিমুল প্রামানিকের ছেলে তুহিন প্রামানিক।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, একই গ্রামের বাসিন্দা গ্রেপ্তার নাঈমের সঙ্গে নিহত রিয়া খাতুনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ১১টার দিকে রিয়া খাতুন নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায়। সেখানে পার্লারে যাবে বলে ধারের টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে নাঈম রিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ বিছানার ওপর চাদর দিয়ে ঢেকে রাখেন। পরে বন্ধু তুহিন ও ইয়াসিনকে ডাকেন। এরপর তিন বন্ধু মিলে মরদেহ নিয়ে পদ্মা নদীর তীরে ফেলে আসেন।
রেজিনুর রহমান বলেন, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। ডিবির একটি দল নিবিড় তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনায় জড়িত নাঈম, তুহিন ও ইয়াসিনকে আটক করা সম্ভব হয়।
পরে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মরদেহ পরিবহনকারী সাদা রঙের প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।
পাবনা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, আজ রাতে নিহতের পরিবার থেকে মামলা দায়ের করলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে আদালতের মাধ্যমে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হবে। রাতভর আরও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
