logo

মাছের আঁশেই বাড়তি আয়, বদলে যাচ্ছে জেলে পরিবারের জীবন

মাছের আঁশেই বাড়তি আয়, বদলে যাচ্ছে জেলে পরিবারের জীবন

একসময় মাছের আঁশকে উচ্ছিষ্ট মনে করে ফেলে দেওয়া হতো। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশদূষণ যেমন হতো, তেমনি এর কোনো অর্থনৈতিক মূল্যও ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলেছে। এখন মাছের আঁশই জেলে পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের উৎস।

কুড়িগ্রাম জেলা শহরসহ বিভিন্ন হাটবাজারে রুই, কাতলা, মৃগেল, ইলিশসহ নানা আঁশযুক্ত মাছের আঁশ সংগ্রহ করছেন জেলেরা। পরে সেগুলো বাড়িতে এনে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে বস্তা বা ড্রামে সংরক্ষণ করছেন জেলে পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস থেকে এক বছর সংরক্ষণের পর এসব আঁশ পাইকারি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতি মণ আঁশের দাম পাওয়া যাচ্ছে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। এতে অনেক জেলে পরিবারের সংসারে বাড়তি আয় যোগ হচ্ছে এবং আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে। অন্য জেলে পরিবারও এখন আঁশ সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় দুই শতাধিক হাটবাজারে বছরে ৫০ হাজার টনের বেশি মাছের চাহিদা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মাছ থেকে উৎপন্ন আঁশ সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা গেলে তা জেলে পরিবারের জন্য টেকসই আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

জেলা শহরের খলিলগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী পূর্ণ চন্দ্র দাস বলেন, তিনি নিয়মিত বড় মাছের আঁশ সংগ্রহ করেন। মাসে ২০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত আঁশ পাওয়া যায়। সেগুলো শুকিয়ে বছরে কয়েক দফা ঢাকা, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। মাছের আঁশের পাশাপাশি মাছের নাড়িভুঁড়ি, পেটের বেলুন ও মাথার কিছু অংশও বিক্রি করে আয় করছেন।

মাছ কাটার শ্রমিক সজিব বলেন, আগে এসব আঁশ ফেলে দেওয়া হতো। এখন তা আর ফেলা হয় না। বাজারেই সংগ্রহ করে মহাজনের কাছে বিক্রি করা হয়, এতে বাড়তি আয় হচ্ছে।

জেলে পরিবারের কয়েকজন গৃহিণী জানান, আগে আঁশ ফেলে দিতেন। এখন সেগুলো শুকিয়ে জমিয়ে রাখেন। পরে বিক্রি করে পাওয়া টাকা সংসারের খরচে কাজে লাগে।

জানা গেছে, মাছের আঁশ বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ওষুধ শিল্প ও পোলট্রি ফিড তৈরিতে এর চাহিদা রয়েছে। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব আঁশ জাপান, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে। ফলে একদিকে পরিবেশদূষণ কমছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, মাছের আঁশ এখন আর বর্জ্য নয়, এটি মূল্যবান সম্পদ। বিভিন্ন শিল্পে এর চাহিদা বাড়ছে। জেলেদের এ বিষয়ে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে তারা এই খাতে আরও সম্পৃক্ত হতে পারেন।