‘৫ লাখ টাকা দিতে হবে’, অডিও ভাইরালের পর যুব অধিকারের নেতাকে অব্যাহতি

প্রবাসে যাওয়ার ভিসা-সংক্রান্ত কাজে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ব্যবহার করে পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ ওঠার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসেনকে সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্তে তাকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও সংগঠনের নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে, ফারুক হোসেনের ভিসা-সংক্রান্ত ব্যবসা নিয়ে একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ভিপি নুরের নির্দেশ, ৫ লাখ টাকা দিতে হবে—এক পয়সাও কম হবে না বাবা। ওই কথোপকথনে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে, অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নুরুল হক নুর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমার নাম ব্যবহার করে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।’ একই পোস্টে তিনি জানান, অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন। তার দাবি, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠস্বর কাটাছেঁড়া ও সম্পাদনা করে ওই অডিও তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমার এলাকার সাকিব নামের এক ছোট ভাই পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বললে আমি পাঁচ হাজার টাকার কথা বলি। সেই পাঁচ হাজার টাকাকেই এআই দিয়ে পাঁচ লাখ বানানো হয়েছে। অডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
