logo
Advertisement

মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর রফিককে লেখা জিয়াউর রহমানের চিঠি

এশিয়া পোস্ট নিউজ,বগুড়া
মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর রফিককে লেখা জিয়াউর রহমানের চিঠি
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা চিঠি। শনিবার বগুড়ায় আয়োজিত প্রদর্শনী থেকে তোলা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মুক্তিযুদ্ধের সময় এক নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলামকে (বীর উত্তম) লেখা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি চিঠি সামনে এসেছে। বগুড়ায় আয়োজিত ডাকটিকিট প্রদর্শনীতে চিঠিটি দেখা গেছে। চিঠির উপরিভাগে ডান পাশে তারিখ উল্লেখ রয়েছে–২৪ জুলাই, ১৯৭১।

Advertisement

শনিবার (২৯ আগস্ট) বগুড়ায় প্রথমবারের মতো দুই দিনব্যাপী ‘বগুড়াপেক্স ২০২৬’ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত জিয়াউর রহমানের লেখা চিঠিটি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষিত করেছে।

৫৫ বছর আগের সংরক্ষিত ওই চিঠির পাশাপাশি প্রদর্শনীতে শত-শত দেশি-বিদেশি ডাকটিকিট, বিশেষ খাম ও বিভিন্ন স্মারক স্থান পেয়েছে।

ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ও বিএএফ শাহীন কলেজ বগুড়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনীতে ৫০টির বেশি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে। অংশ নিয়েছেন অর্ধশতাধিক ডাকটিকিট সংগ্রাহক।

প্রদর্শনীতে জিয়াউর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, শিক্ষা, খেলাধুলা, সংগীতসহ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ডাকটিকিট স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, জিয়াউর রহমানের ছবি সংবলিত ৫০ টাকা ও দুই টাকার ডাকটিকিট এবং ২০০৪ সালের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত উদ্বোধনী খাম।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে প্রকাশিত একটি বিশেষ খামও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। ওই খামে সংযুক্ত ছিল জিয়াউর রহমানের ছবি সংবলিত দুই টাকার ডাকটিকিট। এসব সংগ্রহের একটি অংশ প্রদর্শন করেন ডাকটিকিট সংগ্রাহক মহিউজ্জামান ইমরান।

এ ছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কনসার্ট ফর বাংলাদেশ, বাংলাদেশের পাখি, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, খেলাধুলা, শিক্ষা, সংগীত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পতাকা ও রানী এলিজাবেথসহ নানা বিষয় ডাকটিকিটে তুলে ধরা হয়। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের ইতিহাস-সংক্রান্ত ডাকটিকিটও ছিল প্রদর্শনীতে।

ডাকটিকিট সংগ্রহে আগ্রহী নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণও ছিল প্রদর্শনীতে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ডাকটিকিট সংগ্রাহক অহী প্রজ্ঞা এ বছরের শুরু থেকে ডাকটিকিট সংগ্রহ করছে। এখন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৭৫০টির বেশি ডাকটিকিট সংগ্রহ করেছে সে।

অহী বলে, ‘আমি মূলত গান গাইতে পছন্দ করি। তাই বিশ্বজুড়ে সংগীত-সংক্রান্ত ডাকটিকিট সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।’

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অতিথিরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অতিথিরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

শিক্ষার্থীদের হাতে লেখা চিঠির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে প্রদর্শনীতে হলুদ খামের ব্যবস্থা করা হয়। তারা প্রিয়জনদের উদ্দেশে চিঠি লিখবে এবং সেগুলো পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে ডাক বিভাগ।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত শ্রাবন্তী বলে, ‘এখানে এসে নতুন অভিজ্ঞতা হলো। একসঙ্গে বিভিন্ন সময়ের ডাকটিকিট দেখলাম। আমিও ভবিষ্যতে ডাকটিকিট সংগ্রহ করব।’

আরেক শিক্ষার্থী হুমায়রা জান্নাতুল ফেরদৌস বলে, ‘চিঠির প্রদর্শনী দেখে অনেক ভালো লাগল। এটা আগে কখনও দেখিনি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উত্তরাঞ্চল রাজশাহীর পোস্টমাস্টার জেনারেল আল-মাহবুব। তিনি বলেন, ডাকটিকিট সংগ্রহ জ্ঞানের আধার। এর মাধ্যমে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বের নানা বিষয় সম্পর্কে জানা সম্ভব। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ফিলাটেলিক জ্ঞান কাজে লাগে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএএফ শাহীন কলেজ বগুড়ার অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন নওশাদ ফাতেমী বলেন, এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করা। মোবাইল ও ফেসবুকের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে রেখে তাদের ডাকটিকিট সংগ্রহের মতো জ্ঞানভিত্তিক শখে আগ্রহী করে তুলতে এমন আয়োজন ভূমিকা রাখবে।

বগুড়া ফিলাটেলিক সোসাইটির সভাপতি সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার জানান, বগুড়ায় প্রথমবারের মতো এমন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়ার আশা তাদের।

ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফারুক জানান, তারা দেশব্যাপী ডাকটিকিট প্রদর্শনীর আয়োজন করে যাচ্ছেন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ডাকটিকিট সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিষয় :