logo
ধুঁকছে নড়াইলে লাইব্রেরি

৪০ হাজার বইয়ের গ্রন্থাগারে দিনে পাঠক ৩৫ জন

৪০ হাজার বইয়ের গ্রন্থাগারে দিনে পাঠক ৩৫ জন
এখন ফাঁকাই পড়ে থাকে নড়াইলের সরকারি গণগ্রন্থাগার। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নড়াইলের গ্রন্থাগারগুলোতে হাজার হাজার বই সাজানো রয়েছে পাঠকের অপেক্ষায়। সাহিত্য থেকে বিজ্ঞান, ইতিহাস থেকে জীবনী জ্ঞানচর্চার প্রায় সব শাখার সমৃদ্ধ সংগ্রহ থাকলেও দিন দিন কমছে পাঠকের সংখ্যা। একসময় পাঠকদের পদচারণায় মুখর থাকা লাইব্রেরিগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি বাড়ায় বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম, যার প্রভাব পড়েছে জেলার সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোতে।

নড়াইল জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে একসঙ্গে দুই শতাধিক পাঠকের বসে বই পড়ার সুযোগ রয়েছে। পাঠকদের সুবিধার্থে এখানে রয়েছে পৃথক পুরুষ, নারী, জব (চাকরি) ও পত্রিকা কর্নার। প্রায় ৪০ হাজার বইয়ের সমৃদ্ধ এই গ্রন্থাগারটি সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন খোলা থাকে। অথচ প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ জন পাঠক এখানে আসেন।

গ্রন্থাগারের শিশু কর্নারে এখনো কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি চোখে পড়ে। সেখানে হাতে গোনা কয়েকজন শিশুকে গল্পের বই পড়া ও খেলাধুলার মাধ্যমে সময় কাটাতে দেখা যায়। তবে মূল পাঠকক্ষ অধিকাংশ সময়ই ফাঁকা পড়ে থাকে। জেলার প্রায় ২০ থেকে ২২টি সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগারের অবস্থাও প্রায় একই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন, ট্যাব, কম্পিউটার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে নতুন প্রজন্ম বই পড়া থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে। একসময় লাইব্রেরিতে বসার জায়গা না পেয়ে পাঠকদের অপেক্ষা করতে হতো। অথচ এখন পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও পাঠকের অভাব প্রকট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের বইমুখী করতে এবং সমাজে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। নিয়মিত সেমিনার ও পাঠচক্র আয়োজন, স্কুল-কলেজে বই পড়া উৎসব ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিমুখী করা এবং গ্রন্থাগারগুলোর আধুনিকায়ন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আব্দুল হাই ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মল্লিক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার নতুন প্রজন্মকে বইয়ের পাতা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। একসময় শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্ঞানচর্চা করত, যা তাদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। বর্তমানে স্ক্রিন-নির্ভরতার কারণে সেই অভ্যাস কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রন্থাগারগুলোকে শুধু বই সংরক্ষণের স্থান হিসেবে রাখলে চলবে না, এগুলোকে প্রাণবন্ত করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে অন্তত একটি লাইব্রেরি ক্লাস চালু করা এবং তরুণদের আগ্রহ অনুযায়ী নতুন বই সংগ্রহ বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।"

এ বিষয়ে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. আব্দুল ছালাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, লাইব্রেরিগুলোতে পাঠক ফেরাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে নানা প্রতিযোগিতা ও উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।