জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ পাভেলের পরিবারে আজও থামেনি কান্না

লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করা ২০ বছরের তরুণ পাভেল হাসান রাব্বি ছিলেন ছাত্রদলের এক ত্যাগী ও সক্রিয় কর্মী। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে গুলিতে নিহত হন তিনি। আজ দীর্ঘ ২৩ মাস পার হয়ে গেলেও স্বজনহারা এই শহীদ পরিবারের কান্না থামেনি। বুক খালি হওয়া বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আহাজারিতে এখনও ভারী হয়ে ওঠে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের নওগাঁ গ্রামের বাতাস। এখন পরিবারের একটাই দাবি, সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং রাব্বিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের মর্যাদা দেওয়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার পল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রতিদিনের মতো অংশ নেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাধি উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ নওগাঁ গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির বাবুল হোসেন পাটোয়ারীর বড় ছেলে পাভেল হাসান রাব্বি। কর্মসূচি চলাকালে হঠাৎ তার মাথা ও বুকে গুলি লাগে। বন্ধুরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাব্বিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের শোকে কাতর মা পারভীন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার দুইডা পোলার মধ্যে বড় পাভেল হাসান রাব্বি। অয় দেশের জন্য শহীদ হয়েছে। আমার পোলাডারে যেন শহীদের মর্যাদা দেওয়া হয়, পাশাপাশি আমি খুনিদের বিচার চাই। ছেলেডা ছাড়া মনে হয় আমরা বেঁচে থেকেও মরা মানুষের মতন আছি।’
বাবা বাবুল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, আমার ছেলের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচার ও স্বৈরতন্ত্র মুক্ত হয়েছে। আমরা এখন একটা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। যারা আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করেছে, প্রশাসনের কাছে তাদের জোরালো বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম বলেন, একাধিক ছাত্রদল কর্মী জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, যার মধ্যে রাব্বি অন্যতম। রাব্বি জাতির ক্রান্তিলগ্নে দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। এমন ত্যাগী বীরদের রক্তের বিনিময়েই আজ আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তার জীবনের বিনিময়ে গোটা জাতি যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে, এটাই আমাদের বড় পাওয়া।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম ইশমাম জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে এই উপজেলায় সর্বমোট চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যে শহীদদের পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। এ ছাড়াও তাদের পরিবারকে যে কোনো ধরনের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।






