চাটখিলে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১১

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া ইউনিয়নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সামির হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের চাটখিলের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় চাটখিল থানায় উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে হাটপুকুরিয়া ইউনিয়নের একটি এলাকায় সামির হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটপুকুরিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ও তার ভাই সোহাগের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি দল এই হামলা চালায়। এ সময় রনি ও ফাহাদসহ কয়েকজন তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, শাহাবুদ্দিনের আরেক ভাই তথা হাটপুকুরিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হারুনও ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে হামলার ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামির হোসেনকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এ সময় হাটপুকুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান শাহিন (শাহিন মাস্টার) এবং ছাত্রদল নেতা শরিফুর রহমান আপন হামলার শিকার হন।
প্রথম দফার হামলার পর ভুক্তভোগীরা চাটখিল থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে যান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় থানার পাশের মহাসড়কে সোহাগের নেতৃত্বে চাটখিল পৌরসভা জামায়াত-শিবিরের এক নেতার ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে রবিউল, সুজন ও শাহীন নামের তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরপর দুটি হামলার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
এ সময় হাটপুকুরিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ও তার ভাই সোহাগসহ আরও পাঁচজন আহত হন। সব মিলিয়ে দুই দফার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের পর থেকে হাটপুকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)


