৯ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি নলকূপের আগুন, ঘটনাস্থলে সেনা

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ থেকে বের হওয়া আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন সেনাসদস্যরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে ইনানীর ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিকেল চারটা পর্যন্ত অর্থাৎ নয় ঘণ্টায়ও সেই আগুন নিয়ন্ত্রণ আসেনি।
আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন সেনাসদস্যরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, সকালে ছোট ইনানী এলাকায় আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। একপর্যায়ে গর্ত থেকে গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হতে শুরু করে। এর পরপরই আগুন জ্বলে ওঠে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ গ্যাসের উপস্থিতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি অবহিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন জানান, প্রায় ১০ দিন আগে আবদুল্লাহর ভাড়া বাসার আঙিনায় পানির জন্য গভীর নলকূপ খননের কাজ শুরু হয়। প্রায় এক হাজার ফুট খনন করেও পানি না পাওয়ায় কাজ বন্ধ করে গর্তটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালে ওই গর্ত থেকে হঠাৎ গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার দোলন আচার্য্য বলেন, ভূগর্ভস্থ গ্যাসের চাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গ্যাসের প্রকৃতি ও উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ঘটনাটি বাপেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল গ্যাস নির্গমনের প্রকৃতি, সম্ভাব্য উৎস এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত পদ্ধতি পর্যালোচনা করবে। তাদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইউএনও আরও বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পরিস্থিতি নিরাপদ পর্যায়ে নিয়ে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।