logo
Advertisement

বদলি ঠেকাতে মহাপরিচালকের কাছে আবেদন সেই শিক্ষা কর্মকর্তার

বদলি ঠেকাতে মহাপরিচালকের কাছে আবেদন সেই শিক্ষা কর্মকর্তার
মনিকা পারভীন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন তার বদলির আদেশ স্থগিতের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন। পারিবারিক ও মানবিক কারণ দেখিয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলি স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। একই আদেশে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছাকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা করা হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে। তা না হলে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে। ‘জনস্বার্থে’ এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবেদনে মনিকা পারভীন উল্লেখ করেছেন, তার একমাত্র কন্যা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মস্থল পরিবর্তন হলে মেয়ের পড়াশোনা, মানসিক স্থিরতা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে মানবিক ও পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অন্তত মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলি স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

মনিকা পারভীন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি যোগ দেন। তিনি বর্তমান কর্মস্থলে সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন।

মনিকার বদলির আগে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে ঘুষের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদ সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দাবির অভিযোগ জানাতে ‘ঘুষ.সাইট’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন। ওই প্ল্যাটফর্মের প্রচারণার অংশ হিসেবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে ৮ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগের পর গত ৩১ আগস্ট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ মজিবুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন মনিকা পারভীন। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়। তবে মনিকা পারভীনের বদলির আদেশে ঘুষের অভিযোগ বা ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে আলোচনার কোনো উল্লেখ নেই। আদেশে শুধু ‘জনস্বার্থে’ বদলির কথা বলা হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর মনিকা পারভীন বদলি স্থগিত চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন। আবেদনটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ আমাদের জানা নেই। তবে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছা ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় বদলি হতে প্রধান কার্যালয়ে লিখিতভাবে আবেদন করেছিলেন। কোনো শিক্ষা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, এদিন সন্ধ্যায় ‘ঘুষ.সাইট’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের উদ্যোক্তা শাহেদ শরীফ আহমেদের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুষ দাবি করার বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়ছে। তবে ময়মনসিংহ বিভাগের ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পড়েছে। কোন সরকারি অফিসের বিরুদ্ধে কতগুলো অভিযোগ পড়েছে, তা আলাদা করে হিসেব করা হয়নি।

শাহেদের ভাষ্য, তাদের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানানো নয়; বরং কোথায় কী ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠছে, তার একটি সামগ্রিক চিত্র তৈরি করা। তার ধারণা, কোন দপ্তরে বেশি অভিযোগ, কোন ধরনের সেবায় বেশি ঘুষের দাবিও এবং কী পরিমাণ অর্থ চাওয়া হচ্ছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করা গেলে দুর্নীতির ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো শনাক্ত করা সম্ভব।