logo
Advertisement

ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ‘১৪৪ ধারা জারির’ মাইকিং, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নাটোর
ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ‘১৪৪ ধারা জারির’ মাইকিং, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মারুফ আলী। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

নাটোরে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় অতিথি না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বেআইনিভাবে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা ও মাইকিং করায় ছাত্রদল নেতা মারুফ আলীকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নাটোর জেলা শাখার সহদপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারা এবং আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে বহিস্কার করা হয়।

নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনের যৌথ নির্দেশে সংগঠনটির শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে মারুফ আলীকে প্রথমে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মারুফের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতার সাথে যেকোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলাম বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কাজ ছাত্রদল মেনে নেবে না। তাই লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালপুরের কেশবপুর গ্রামে প্রতি বছরই ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। প্রায় ৬০ বছর ধরে চলে আসা এ ধারাবাহিকতায় এবারও টুর্নামেন্টের আয়োজন করে গ্রামবাসী। টুর্নামেন্টে অংশ নেয় গ্রামেরই কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরিজীবী দল। গত শুক্রবার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ঐতিহ্য অনুযায়ী টুর্নামেন্টের আয়োজক থেকে শুরু করে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং অন্যান্য অতিথি হন গ্রামের প্রবীণরা। তারাই বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তবে এ আয়োজনে দাওয়াত না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন ছাত্রদল নেতা মারুফ আলী। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দু'দিন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং করেন তিনি। মাইকিংয়ের পর থেকে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য মাহবুব হোসেন জানান, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ছাত্রদল নেতা মারুফ আলী ফাইনাল ম্যাচের পুরস্কার বিতরণীতে পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি এবং তাকে বিশেষ অতিথি করতে চাপ দেন। কিন্তু আয়োজক কমিটি তাতে রাজি হয়নি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১১টার দিকে দ্বিতীয় দফায় মাইকিং করে ওই যুবক জানান, খেলার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, তাই কেউ খেলতে পারবেন না। মাইকিংয়ের পর খেলাটি স্থগিত হয়ে যায়।

কেশবপুর গ্রামের প্রধান আজিজুর রহমান জানান, ছাত্রদল নেতার এমন বেআইনি ঘোষণার পর ম্যাচ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এলেও ওই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। উপজেলা প্রশাসন ছাড়া অন্য কেউ ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় অবৈধভাবে মাইকিং করে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি তৈরি করা বেআইনি ও বড় ধরনের অপরাধ। লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি, তবে এ বিষয়ে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ না থাকায় তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয় :