logo
Advertisement

সার নিয়ে সিন্ডিকেট বন্ধে ফের লালমনিরহাটে কৃষকদের বিক্ষোভ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,লালমনিরহাট
সার নিয়ে সিন্ডিকেট বন্ধে ফের লালমনিরহাটে কৃষকদের বিক্ষোভ
মহাসড়ক অবরোধ করে কৃষকদের বিক্ষোভ। সোমবার সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফকিরের তকেয়া মোড়ে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

লালমনিরহাটে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, কালোবাজারি বা সিন্ডিকেট বন্ধের দাবিতে আবার রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। এতে মহাসড়কের জেলা সদরের ফকিরের তকেয়া এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে কৃষকরা অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফকিরের তকেয়া মোড় এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে কৃষকরা এই বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এর আগে, রোববারও সার সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে লালমনিরহাটের বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা বিক্ষোভ আন্দোলন করেছেন। ঘটনার ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে সারের অবৈধ মজুত ও চড়া দামে বিক্রির দায়ে বিএনপি নেতা আরিফুল ইসলাম নয়নকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানাপ্রাপ্ত আরিফুল ইসলাম নয়ন রুদ্রেশ্বর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে এবং কাকিনা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

সোমবার সকালের মহাসড়ক অবরোধের ফলে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও স্থানীয় যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। তীব্র গরমের মধ্যে সড়ক আটকে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্সের রোগী এবং পরিবহন শ্রমিকরা।

ঘটনার খবর পেয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা উত্তেজিত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াসহ বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায়সংগত মূল্যে পর্যাপ্ত সার বণ্টনের আশ্বাস দেওয়া হলে দুপুর ১২টার দিকে কৃষকরা শান্ত হয়ে অবরোধ তুলে নিয়ে সড়ক ত্যাগ করেন।

কৃষকরা বলছেন, রোপা আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের সঠিক সময় চলছে। চাহিদা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারদের কাছে গিয়ে সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। অথচ বলা হয় দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই, প্রচুর সার মজুত আছে। মাঠপর্যায়ে আমরা কৃষকরা কেন সার পাচ্ছি না। সার যাচ্ছে কোথায়। অসাধু ডিলার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে সারের এমন কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোনিতা দাস বলেন, জেলায় সারের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সংকট নেই। সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। যদি কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী সার কৃত্রিমভাবে আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করে কিংবা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।