শ্রীমঙ্গলের বর্জ্য যাচ্ছে হাইল হাওরে, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের আবর্জনা নিয়মিত ফেলানো হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হাইল হাওরে। যত্রতত্র পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার কারণে হাওরের স্বাদু পানি ও চারপাশের পরিবেশ দ্রুত বিষাক্ত হয়ে উঠছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হাইল হাওরের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ও আশীদ্রোন ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মতিগঞ্জ গ্রাম এলাকার ছড়া দিয়ে প্রতিদিন শহরের সব বর্জ্য হাওরে গিয়ে পড়ছে। নিয়মিত পলিথিন ও প্লাস্টিক ফেলায় তা হাওরে জমে বিশাল স্তূপে পরিণত হয়েছে। এর ফলে একসময় চমৎকার সবুজ প্রকৃতি ও স্বাদু পানির আধার হিসেবে পরিচিত হাইল হাওর এখন ক্রমেই ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে।
হাওরপাড়ের বাসিন্দা আনোয়ার মিয়া, সারফিন আহমদ, বিল্লাল আহমদ ও সালমান মিয়া তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পলিথিন আর প্লাস্টিকে হাওরের স্বাদু পানি আর সবুজ প্রকৃতি আজ বিপন্ন। আমরা একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর অবশ্যই চাই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে একটি সমৃদ্ধ হাওরকে ময়লার ভাগাড় বানানো হবে। হাওরের বুকে প্রতিদিন এই বর্জ্যের স্তূপ তৈরি করার অর্থ আমাদের আগামী প্রজন্মের মুখে বিষ তুলে দেওয়া।
পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনতিবিলম্বে হাইল হাওরে আবর্জনা ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। হাওরের বাস্তুসংস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় শ্রীমঙ্গল শহরের জন্য পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প ও উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা জোর দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, হাইল হাওরে প্রতিদিন বিভিন্ন বর্জ্য আসায় ছড়া আটকে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। ফলে হাওরের কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, হাইল হাওরের ছড়াটি খনন করার জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবগত করা হয়েছে। কিছু দিন আগেও ছড়ার কিছু অংশ উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গল শহরের জন্য পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প ও উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের কাজও শুরু হয়েছে।
