দেশ ছাড়তে পারেন তনুর ময়নাতদন্তকারী দলের প্রধান, দাবি পরিবারের

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার অগ্রগতির মধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছে পরিবার। তাদের দাবি, তনুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক কামদা প্রসাদ সাহা দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই ডাক্তার পালানোর চেষ্টা করছেন। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে জানান, তারা সার্বিক বিষয়ে নজর রাখছেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে একাধিকবার ময়নাতদন্ত হলেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। পরিবারের অভিযোগ রয়েছে, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
সে সময় ময়নাতদন্ত দলের প্রধান ছিলেন কামদা প্রসাদ সাহা। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে কর্মরত।
তনুর বাবার দাবি, কামদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনওসি (অনাপত্তি সনদ; ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়) নিয়ে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘শুরুতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। ফরেনসিক রিপোর্ট পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। এখন শুনছি, ওই ডাক্তার পালানোর চেষ্টা করছেন। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ের রিপোর্ট বদলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি যদি নির্দোষ হন, তাহলে পালানোর চেষ্টা কেন করবেন? আমরা চাই, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।’
এ বিষয়ে জানতে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যাপক ডা. কামদা প্রসাদ সাহার ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে দুপুর ১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজে তার অফিসে গিয়ে কথা হয়।
তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি থাইল্যান্ড যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এনওসি চেয়েছি। এটা স্বাভাবিক বিদেশযাত্রা। এখানে অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই। আমি দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত (তনুর মরদেহের) করেছিলাম। এখানে কোন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, সব বিষয়ে কাজ চলছে। মামলার অগ্রগতি হচ্ছে। সময় হলে সব তথ্য জানা যাবে।
তনু হত্যার ঘটনায় গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে আটক করা হয় সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর হাফিজুর রহমানকে। পরে তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২২ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে শনিবার (২৫ এপ্রিল) তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত তরিকুল ইসলাম জানান, হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করার আগে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে তার ডিএনএন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএ ম্যাচ করে দেখার কাজ এরই মধ্যে শুরু করেছে সিআইডি। রিপোর্ট পেতে কিছুটা সময় লাগবে।
২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে সময় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হলেও সন্দেহভাজনদের সঙ্গে নমুনা ম্যাচিং (মেলানো) করা হয়নি। এবারই প্রথম কারও নমুনা ম্যাচিংয়ের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।