logo
Advertisement

সংস্কারের অভাবে বেহাল সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,নীলফামারী
সংস্কারের অভাবে বেহাল সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল
সংস্কারের অভাবে বেহাল সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল। ছবি: এশিয়া পোস্ট

উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় শহরগুলোর একটি সৈয়দপুর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেন, বাস কিংবা আকাশপথে প্রতিদিনই এই শহরে আসেন হাজারো মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাতায়াত করেন ভিআইপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রী। ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকেও উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শহরের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই শহরের একমাত্র কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটির চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

Advertisement

প্রায় চার দশক আগে যাত্রীসেবার কথা চিন্তা করে নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবে এখন বেহাল হয়ে পড়েছে টার্মিনালটি। ভাঙাচোরা সড়ক, বড় বড় খানাখন্দ আর সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার কারণে অনেক বাস টার্মিনালে ঢুকতেই চায় না। বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়েই যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

দিনাজপুর ও রংপুর জেলার মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আনুমানিক ১৯৮৪ সালে নির্মাণ করা হয় সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। এই টার্মিনাল থেকে বর্তমানে প্রতিদিন পার্বতীপুর, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, নীলফামারী, জলঢাকা, ডোমার, চিলাহাটি ও ফুলবাড়িসহ বিভিন্ন রুটে শতাধিক বাস ও মিনিবাস চলাচল করে। পাশাপাশি ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে একাধিক দূরপাল্লার দিবা ও নৈশ কোচ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও পাকা সড়ক ভেঙে গেছে, কোথাও জমে আছে পানি ও কাদা। বৃষ্টির সময় টার্মিনালজুড়ে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে বাস চালকদের গাড়ি প্রবেশ ও পার্কিং করতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। যাত্রীদেরও বাসে ওঠানামার সময় পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।

যাত্রী সানজিদা আক্তার বলেন, টার্মিনালে ন্যূনতম যাত্রীসেবাও নেই। টয়লেটের অভাবে নারী যাত্রীদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। সন্ধ্যার পর অনেক সময় লোকাল বাস পাওয়া যায় না। তখন মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

আরেক যাত্রী রাকিবুল ইসলাম বলেন, টার্মিনালে বাস থামার মতো কোনো অবস্থাই নেই। টার্মিনালের ভেতরের রাস্তা খারাপ হওয়ায় বাসগুলো মহাসড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়। এখন দেখা যাচ্ছে নামার সময় পাশ দিয়ে আরেকটি বাস চলে যাচ্ছে, এতে দারুণ ভয় নিয়ে নামতে হয়। বাস থেকে ওঠার সময়ও একই অবস্থা। একটু অপেক্ষা করতে হলেও দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, বসার কোনো রকম ব্যবস্থা কোথাও নেই।

শুধু যাত্রী নন, টার্মিনালের বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ভোগে পড়ছেন পরিবহন শ্রমিকরাও। বাসচালক হারেজ মিয়া বলেন, ২০০০ সালের পর থেকে প্রায় প্রতিবছরই পৌরসভার বাজেটে বরাদ্দের কথা শুনেছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে টার্মিনালের দৃশ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। টার্মিনালটি অকার্যকর হয়ে পড়ায় প্রধান সড়কে দাঁড়িয়েই যাত্রী ওঠানামা করাতে হচ্ছে।

নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে টার্মিনালটির উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। ভবনের পাশাপাশি ভেতরের সড়কগুলোতেও বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এতে বাসের যন্ত্রাংশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। টার্মিনাল সংস্কারের জন্য পৌর পরিষদকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রেখে বাস টার্মিনালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।