ক্যানসারজয়ী নিশার স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে সুস্থতার পথে ১২ বছর বয়সি নিশা রানী শীল। তবে সুস্থ থাকতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলোআপ প্রয়োজন। আর্থিক সংকটের কারণে এবার সেই পরীক্ষার খরচ জোগাড় করতে পারছিল না তার পরিবার। বিষয়টি জানতে পেরে নিশার চিকিৎসা-পরবর্তী পরীক্ষার সব খরচ বহনের ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রোববার (৮ নভেম্বর) প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিশার পরিবারের হাতে পরীক্ষার খরচের টাকা তুলে দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম।
নিশা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের ফেনীগ্রাম ফুলতলি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা নেপাল কুমার শীল পেশায় নরসুন্দর। মা তৃষ্ণা রাণী শীল। চার বছর বয়সে নিশার ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর মেয়ের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন আর্থিক সংকটের মধ্যেও লড়াই চালিয়ে গেছেন তার বাবা। বর্তমানে নিশা কিচক নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এর আগে, জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে নেওয়া মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিশার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছিলেন তৎকালীন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মীর শাহে আলম। তার উদ্যোগেই শুরু হয় নিশার জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর নিশার চিকিৎসা ও এ মানবিক উদ্যোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিশার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে পরীক্ষার খরচ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করেন।
সহায়তা পাওয়ার পর নিশার বাবা নেপাল কুমার শীল বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের পরীক্ষাগুলো করাতে পারছিলেন না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনি পরীক্ষার সব খরচের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এ জন্য তিনি ও তার পরিবার প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।
প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নিশার চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করেছিলেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে সে অনেকটাই সুস্থ। তবে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলোআপের জন্য অর্থের পাশাপাশি হাসপাতালে সিরিয়াল পেতে সমস্যার কথা জানানো হলে প্রতিমন্ত্রী পরীক্ষার খরচ দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করেন।

