চবিতে নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় ছাত্রদল নেতা আটক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রদলের এক নেতাকে নারী শিক্ষার্থীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়েছে। তবে আটক নেতার দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় ফ্ল্যাট থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
জানা গেছে, সাকিফ ও তার এক নারী বন্ধু বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে আগে থেকেই টিকিট কেটেছিলেন। রাতে খাবার শেষে তারা যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় সাকিফের জামাকাপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র গোছানো না থাকায় তিনি নিজের ফ্ল্যাটে যান। তখন কয়েকজন স্থানীয় যুবক তাদের অনুসরণ করতে থাকে। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় এবং গভীর রাত হওয়ায় ওই নারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাকে সাময়িকভাবে বাসায় নিয়ে যান সাকিফ। তারা দীর্ঘক্ষণ বাসা থেকে না বের হওয়ায় স্থানীয়রা তাদের বাসায় উপস্থিত হয়।
তারা ফ্ল্যাটের দরজায় বারবার নক দিলেও কেউ দরজা খোলেননি। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন স্থানীয়রা। এ সময় নারী শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় সাফিককে বাসার ভেতরে অবস্থান করতে দেখে স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, তাকে নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল সাকিফ বলেন, শনিবার রাতে আমি ও আমার এক বন্ধু বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে টিকিট কাটি। ডিনার শেষে আমি জামাকাপড় আনতে বাসায় গেলে কয়েকজন স্থানীয় ছেলে আমাকে অনুসরণ করে। এর আগেও জোবরা সংঘর্ষের ঘটনায় তারা আমাকে হুমকি দিয়েছিল। বন্ধুর নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে বাসায় বসতে বলি। আমি ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে গেলে দুই-তিন মিনিটের মধ্যে তারা বাসায় উঠে আসে। প্রথমে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও পরে উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারধর করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি দেখে দরজা বন্ধ করলে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে, কাপড় খুলে ছবি-ভিডিও নেয়। তখন মনে হচ্ছিল আমি বাঁচব না। তারা আমার মানিব্যাগ, আইডি কার্ড, ল্যাপটপ এবং আমার বন্ধুর ব্যাগ, টাকা ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেয়। পরে প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ভাই এসে আমাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আজ ঘুম থেকে উঠে দেখি বিভিন্ন পেজে আমাদের নিয়ে কুৎসা রটানো হচ্ছে। জোবরা সংঘর্ষের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেে। তারা নাকি সারাদিন একসঙ্গে ঘোরাফেরা করেছিল। দেরি হয়ে যাওয়ায় ব্যাগ নেওয়ার জন্য ওই বাসায় গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে। আমরা শনিবার রাত পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছি। এখন তদন্ত করে দেখা হবে কেন সেখানে গিয়েছিল, কীভাবে পুরো ঘটনাটি ঘটেছে সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর কোনো মুচলেকা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সেখানে গিয়ে তাদের দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করি। ঘটনাস্থলে দেখে মুচলেকা নেওয়ার মতো কোনো কিছু আমাদের চোখে পড়েনি। তাই আমরা মুচলেকা নিইনি। জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
