পাওনা ৪৫ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়েন্তিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনকে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
চা দোকানি শামীম হোসেন ও স্থানীয়রা জানান, জয়েন্তিপুর গ্রামের আতাহার আলীর ছেলে মুদি দোকানি মোস্তফার কাছে চা খাওয়ার ৪৫ টাকা পাওনা ছিল শামীমের। ওই টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরে বিষয়টি উভয় পক্ষের স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
এদিকে আহতরা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যাওয়ার পর সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে কিছু সময় বাকবিতণ্ডা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি শান্ত করে।
তবে চা দোকানি শামীমের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুদি দোকানি মোস্তফা। তিনি বলেন, চা খাওয়ার পর বিল কত হয়েছে জানতে চাইলে শামীম ৪৫ টাকা দাবি করেন। এত টাকা কীভাবে পাওনা হলো জানতে চাইলে শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শামীম তার লোকজন নিয়ে এসে হামলা ও মারধর করেন বলে দাবি করেন মোস্তফা।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন বলেন, সন্ধ্যার পর মারামারিতে আহত হয়ে কয়েকজন হাসপাতালে আসেন। পরে আরও কয়েকজন আসতে থাকেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন হাসপাতালে এসে উত্তেজিত হলে কর্তৃপক্ষ তাদের শান্ত করে।
তিনি জানান, বর্তমানে দুজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



