logo
Advertisement

পুলিশের ভুলে কারাগারে জেলে, প্রকৃত আসামি বিদেশে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,পটুয়াখালী
পুলিশের ভুলে কারাগারে জেলে, প্রকৃত আসামি বিদেশে
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

নাম, বাবার নাম ও গ্রামের ঠিকানা একই হওয়ায় পটুয়াখালীর মহিপুরে মামলার প্রকৃত আসামির বদলে এক মৎস্যজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও মো. জলিল হাওলাদার নামের ওই ব্যক্তি ২০ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে মো. আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের দাবিতে পটুয়াখালীর আদালতে একটি চেক ডিজঅনার মামলা করেন। ওই মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. শহিদুল শিববাড়িয়া এলাকা থেকে হালিমা খাতুনের ছেলে মৎস্যজীবী জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে গ্রেপ্তারের পর জলিলের স্বজন ও আইনজীবী জানতে পারেন, মামলার আসামির সঙ্গে তার নাম, বাবার নাম ও ঠিকানার মিল থাকলেও তিনি ওই মামলার আসামি নন। পরোয়ানায় আসামির মায়ের নাম উল্লেখ না থাকায় পুলিশ সঠিক ব্যক্তি শনাক্তকরণে ব্যর্থ হয়।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় সাধারণত আসামির মায়ের নাম উল্লেখ থাকে না। এ ঘটনায় মায়ের নাম ছাড়া নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা—এই তিন তথ্য একই হওয়ায় হালিমা খাতুনের ছেলে জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জলিলকে গ্রেপ্তারের সময় তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানাননি তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ তা যাচাই করে দেখত। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং ঘটনাটি দুঃখজনক। জলিল যাতে দ্রুত জামিনে মুক্তি পান, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

২০ দিন পরও জামিন শুনানি হয়নি

এদিকে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে জলিল হাওলাদারের জামিনের আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। জলিলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পুরো বিষয়টি আদালতকে জানিয়ে রোববার জামিনের আবেদন করা হয়েছে। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ওই আবেদনের শুনানি হয়নি।

পরিবারের দাবি, মামলার প্রকৃত আসামির সঙ্গে পরিচয়গত মিল থাকায় নির্দোষ জলিলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ভুলের কারণে একজন মৎস্যজীবীকে ২০ দিন ধরে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত যাচাই-বাছাই করে তাকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে পরিবার।