ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ১৮ কিলোমিটার যানজট

বকেয়া বেতন-ভাতা, শ্রমিক ছাঁটাই ও শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উত্তেজিত শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রেখেছেন। এতে সড়কের উভয়পাশে প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় উপজেলার মইকুলি এলাকার বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড নামে পোশাক কারখানায় এই শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী সাধারণ থেকে পথচারীরা। আটকা পড়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে।
ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, মৈকুলি এলাকার বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড নামে পোশাক কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মচারী কাজ করেন। গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন ভাতার দাবি জানিয়ে আসছেন শ্রমিকরা। মালিকপক্ষ আশ্বাস দিয়েও বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের ঘুরাচ্ছেন। যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছেন এবং তাদেরকে ছাঁটাই করছেন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই শ্রমিক এবং মালিকপক্ষ বিরোধ চলছিল। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার সকাল সাতটায় শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজে যোগদান না করে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। বাকি শ্রমিক কারখানা কর্তৃপক্ষ ভেতরেই আটকে রাখেন। এ নিয়ে কারখানার ভিতরে এবং বাইরের শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে সড়কের উভয়পাশের সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কারখানার ভেতরে এবং বাইরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে মালিকপক্ষ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং সেকশনের শ্রমিক সজীব মিয়া প্রতিবাদ করায় তাকে বেঁধড়ক পিটায় মালিকপক্ষের লোকজন। এ ছাড়া যারা প্রতিবাদ করতেন তাদেরকে ছাঁটাই করছে। বকেয়া বেতন ভাতা না পেয়ে এই রমজানে রোজা রেখে তারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। মুদি দোকানিরা এবং বাড়িওয়ালারা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। এমন অবস্থায় শ্রমিকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, কারখানার মালিক নুরুল হক মোহন শ্রমিকদের নানাভাবে নির্যাতন করেছে। বর্তমানে কারখানার জিএম শরীফ আহমেদ ও এজিএম নুর ইসলাম হাদী শ্রমিকদের নির্যাতন ও গালমন্দ করে নানা ধরনের হয়রানি করছেন। শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে এ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
এদিকে সড়ক অবরোধের ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যানবাহন ও যাত্রী সাধারণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়। অনেকে শ্রমিকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা জড়িয়ে হাতাহাতি ও মারামারি ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
যানবাহন চালক ও যাত্রীরা জানান, রমজানে রোজা রেখে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রী সাধারণ। এভাবে তো চলতে পারে না। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা থাকলে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে সমঝোতা করে তা সমাধান করবে সড়কে কেন। এসব ব্যাপারে সমাধান হওয়া দরকার।
এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কোনো প্রকার কথা বলতে রাজি হননি। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন করা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা অবস্থান করছে। এ ছাড়া শ্রমিক এবং মালিকপক্ষ সমঝোতার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জসিম উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, সকাল থেকে এখানে শ্রমিকরা অবরোধ করেছে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট কমানোর জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু শ্রমিকরা রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় মহাসড়কে অনেক বড় বড় পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এজন্য সবকিছুই স্থবির হয়ে আছে।