একটি মহল গণভোটকে বিভ্রান্তিকরভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি মহল গণভোটকে বিভ্রান্তিকরভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে। আমি বিনীতভাবে গণতন্ত্রের পক্ষের সকল শক্তিকে আহ্বান জানাচ্ছি—জনগণ ভোট দিয়ে যে পার্লামেন্ট তৈরি করেছে, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী সেই পার্লামেন্টই হচ্ছে সর্বোত্তম সিদ্ধান্তের জায়গা। জনগণের সকল ক্ষমতা এই পার্লামেন্টের মাধ্যমেই চর্চা হবে। আমাদের দেশের সংবিধান, রাষ্ট্র, রাজনীতি কিংবা বিজ্ঞান—কোনো কিছুতেই নির্বাচিত একটি পার্লামেন্টের চেয়ে অন্য কোনো ক্ষমতাবান কর্তৃপক্ষ জনগণ বরদাশত করে না। অতএব, এরপরও যদি কোনো বিতর্ক থেকে থাকে, তবে তার মীমাংসার একমাত্র জায়গা হচ্ছে পার্লামেন্ট, পার্লামেন্ট এবং পার্লামেন্ট।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা যে সরকার গঠন করেছি, তা বিগত সরকারের এক ধারাবাহিক উত্তরাধিকার। সে কারণে উত্তরাধিকারসূত্রে আমরা একটি দেউলিয়া অর্থনীতি ও বিধ্বস্ত সমাজ পেয়েছি। এমনকি ফ্যাসিবাদের অপকর্মের জঞ্জাল এসে পড়েছে আমাদের ঘাড়েই। তবে আমরা গর্বিত যে, জনগণ এই জঞ্জাল সরানোর দায়িত্বের জন্য আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আমরা গর্বিত, এই বিধ্বস্থ পঙ্গু অর্থনীতিকে আবার দাঁড় করানোর জন্য তারা তারেক রহমানকে তাদের সঠিক নেতা মনে করেছে। আমরা বিনীতভাবে শপথ উচ্চারণ করতে চাই—জনগণের দেওয়া দায়িত্ব আমরা অবশ্যই পালন করব। আর এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো বাধাই আমাদের বরদাশত করবে না।
অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ এবং জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএনপিসহ রাজনৈতিক নেতা, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বরিশালে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার সকালে নগরীর আমতলার মোড় এলাকায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, জুলাই যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
এ ছাড়া সরকারি হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, প্রতিবন্ধী শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও বৃদ্ধাশ্রমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো হয় বরিশাল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে ঘিরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হয় এবং উপস্থিত সকলেই গণতান্ত্রিক চেতনা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
.png)


