নোয়াখালীতে ৩৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ৬০ ভাগ গ্রাহক, ভোগান্তি

হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে থাকা গাছপালা উপড়ে পড়ায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে জেলার প্রায় সোয়া আট লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৬০ ভাগ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন রয়েছে। একটানা প্রায় গত ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকাই ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্ধারিত এরিয়ার হেল্প লাইন নম্বরে ফোন করেও সুরাহা হচ্ছে না। বিপাকে পড়ছে সাধারণ গ্রাহক।
জানা গেছে, গত সোমবার রাত ১২টার পর থেকে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস হয়। এরপর সেটি বজ্রপাতসহ কালবৈশাখী ঝড়ে রূপ নেয়। এতে জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কাঁচা গাছপালা ভেঙে পড়ে। এ সময় ওসব গাছপালার পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার মধ্যে রয়েছেন, বেগমগঞ্জ, সদর, কবিরহাট, সুবর্ণচর ও হাতিয়ার দুই ইউনিয়ন হরণি ও চানন্দী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কবিরহাট এবং সুবর্ণচর।
কবিরহাট উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, গত পরশু রাত ১২টার দিকে ঝোড়ো বাতাস শুরু হওয়ার পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়। ঝড়ে আশপাশে থাকা বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এরপর বিদ্যুৎ চলে গেলো আমাদের এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ আসেনি। ফ্রিজের জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড দফাদার বাড়ির বাসিন্দা ছালা উদ্দিন জানান, একটা ঝড়ে বিদ্যুৎ নিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকে ফোন করে ও আনতে পারিনি। ফ্রিজের খাবারগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের হারিছ চৌধুরীর বাজারের ব্যবসায়ী আবু সায়েদ জানান, রাতে ঝড়ের পরে সকাল থেকে প্রচণ্ড গরম, এর মধ্যে নেই একটানা বিদ্যুৎ। ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ফ্রিজে রাখা ৪০-৫০ টাকার আইসক্রিম ও মিষ্টান্ন গলে যাচ্ছে । ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছি।
গ্রাহকের ফোন রিসিভ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে সুবর্ণচর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ডিজিএম আরব আলী শেখ বলেন, আমাদের জনবল সংকট। চারদিকে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ এই লাইন চেক করতে সময় লাগে। গ্রাহক ফোন করে সমস্যার কথা না বলে অনেক সময় গালমন্দ করে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইন চালু করতে।
তিনি আরও বলেন, জেলার বেগমগঞ্জ থেকে ৬৪ কিলোমিটার ঘুরে সুবর্ণচরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। আজ (বুধবার) দুপুরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. সরোয়ার জাহান জানান, ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইন এবং খুঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লাইন ছিঁড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি অপসারণ করা হয়েছে।
জিএম আরও বলেন, পুরো জেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ৮ লাখ ২০ হাজার জন। এর মধ্যে ৪০ ভাগ সমাধান হয়েছে। আশা করছি, আজ বিকেলের মধ্যে বাকি লাইন সচল করা যাবে।