logo
Advertisement

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা, ঝুলিয়ে রাখা হয় মরদেহ

এশিয়া পোস্ট নিউজ,নীলফামারী
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা, ঝুলিয়ে রাখা হয় মরদেহ
নীলফামারী থানা। ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়া

নীলফামারী সদর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে নাজরিন নাহার (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবদুল জব্বার (৬৫) বাদী হয়ে নীলফামারী সদর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন নাজরিনের স্বামী মো. আলমগীর হোসেন (৪০), শ্বশুর মো. আবদুল মান্নান (৫৬), শাশুড়ি মোছা. আরিফা বেগম ও দেবর মো. দেলোয়ার হোসেন (৪২)। তারা সবাই সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে নাজরিন নাহারের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নাজরিনের পরিবার থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নাজরিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজরিন নিজের শোয়ার ঘরে কাজ করছিলেন। এ সময় তার স্বামী বাবার বাড়ি থেকে তিন লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেন। নাজরিন রাজি না হলে তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে আলমগীর হোসেন তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরলে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়।

পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নাজরিনের মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন নিহতের বাবা। খবর পেয়ে স্বজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।