ঝিনাইদহে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ২ নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর, ককটেল উদ্ধার

ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের দুটি নির্বাচনি অফিসে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের ভূষণ রোড ও হেলাই গ্রামের দুটি নির্বাচনি অফিসে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, রাত ৮টার দিকে ৪টি মোটরসাইকেলে ৮ জন ভূষণ রোড এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনি অফিসে হামলা চালায়। এ সময় তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। অতর্কিত হামলা চালিয়ে অফিসের টেবিল, চেয়ার ও তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এরপর অফিসের মধ্যে একটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু সেটি অবিস্ফোরিত থাকে। পরে পুলিশ এসে একটি ককটেল উদ্ধার করে।
অন্যদিকে ৮ জনের একটি দল পৌরসভার হেলাই গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনি অফিসে হামলা চালায়। অফিসে থাকা চেয়ারগুলো ভাঙচুর করে দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায় তারা।
হেলাই গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা নুর ইসলাম বলেন, রাত ৮টার দিকে মতিয়ার ও মোশাররফসহ আমরা তিনজন কাপ-পিরিচ প্রতীকের নির্বাচনি অফিসে বসে ছিলাম। হঠাৎ ৪টি মোটরসাইকেলে ৮ জনের একটি দল এসে অফিসে ভাঙচুর করে। এদের মধ্যে দুজনকে চেনা গেছে। তারা ফয়লা গ্রামের শাওন ও মুন্না।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, বৃহস্পতিবার ফুরসন্দি ও ঘোড়শাল ইউনিয়নে ছিলাম। হঠাৎ শুনি নিশ্চিন্তপুর ও হেলাই গ্রামের দুটি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের চিনে ফেলেছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। আমার সমর্থকরা সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের মোবাইল ফোনে কল দিলে রিসিভ করেন রাকিব হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে পিএস পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘১০ মিনিট পরে ফোন দিলে কথা বলিয়ে দেওয়া যাবে। তিনি ব্যস্ত আছেন।’
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের দুটি অফিসে কেউ না থাকায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া একটি অফিসের মধ্য থেকে কালো টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি জর্দার কৌটা উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি ককটেল কি না পরীক্ষার পর বলা যাবে। খবর শোনা মাত্রই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অফিস দুটি পরিদর্শন করেছেন।