logo
Advertisement

পাবনায় একই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর ১১ রোগীর যক্ষ্মা শনাক্ত

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পাবনা
পাবনায় একই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর ১১ রোগীর যক্ষ্মা শনাক্ত
আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালের ফটক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ১১ রোগীর যক্ষ্মা শনাক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Advertisement

ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য থানাপাড়া এলাকার গৃহবধূ আয়েশা খাতুনকে (১৮) ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থান না শুকানোয় স্বজনেরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি গাজীপুরে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পরিবারটি হিমশিম খাচ্ছে।

আয়েশার পরিবারের দাবি, শুধু তিনি নন, একই হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানো আরও ১০ রোগীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। পরে তাদেরও যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী আক্রান্ত বাকি ১০ জন হলেন—বেরহাউলিয়া গ্রামের আবু রায়হানের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন (২৪), থানাপাড়ার সাগরের স্ত্রী জয়া রানী (২০), বনওয়ারীনগরের রুলদহ গ্রামের সুমনের স্ত্রী মারুফা খাতুন, বেরহাউলিয়া তিথলিয়া গ্রামের বেলাল হোসেনের স্ত্রী খুশি খাতুন (১৮), গোপালনগরের মিঠাপাড়া গ্রামের মাসুদ রানার স্ত্রী মিতা খাতুন (৩২), গোপালনগরের সোনাহারা গ্রামের মতিউর রহমানের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (৬৫), ডেমরা শাকপালা গ্রামের আরিফ হাসানের স্ত্রী তানিয়া খাতুন (২৮), বনওয়ারীনগরের হালিশা দয়া গ্রামের ইনজামুল হকের স্ত্রী লিমা খাতুন (২২), বেরহাউলিয়া গ্রামের নাঈম হোসেনের স্ত্রী রিতা খাতুন (১৮) এবং বনওয়ারীনগরের আমলাপাড়া গ্রামের শামীম হোসেনের স্ত্রী যুতি খাতুন (২২)।

অভিযোগের বিষয়ে আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, প্রায় চার মাস আগে তাদের হাসপাতালে ৭৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই ব্যক্তি যক্ষ্মায় আক্রান্ত ছিলেন—এ তথ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জানা ছিল না। অস্ত্রোপচারের পর তার ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দিলে পরীক্ষা করে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এরপর আরও কয়েকজন রোগীর একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর থেকে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার খরচ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। তারা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা হবে। এ ছাড়া হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার নতুন করে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিমলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন ডা. সরওয়ার জাহান ফয়েজ (অব.) বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এ ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হাসান শাওন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিষয় :