logo

ভোটের টানা ছুটিতে গাজীপুরের মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট, ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

ভোটের টানা ছুটিতে গাজীপুরের মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট, ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

ভোট উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি পাওয়ায় গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল থেকে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়ির পথে বের হয়েছেন। এর ফলে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহন থেমে থেমে চলায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

গাজীপুরে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর হতে চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার যানচলাচল থেমে থেমে৷ একই অবস্থা চন্দ্রা নবীনগর সড়কেও সেখানেও ৫-৭ কিলোমিটার যানজট । অপরদিকে ঢাকার প্রবেশমুখ আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ঘরমুখো মানুষ। গতকাল হতে এই যানজট ও ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা৷ 

শিল্প কারখানার শ্রমিকরা জানান, ভোটের ছুটিতে নিজ নিজ এলাকায় ভোট দিতে তারা বাড়ি ফিরছেন। সন্ধ্যার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকেই প্রয়োজনীয় যানবাহন পাননি। সকালে কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলেও সেই সুযোগে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ টাকার নিচে কোনো যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

জানা গেছে, গাজীপুরের প্রায় পাঁচ হাজার শিল্পকারখানা একসঙ্গে ছুটি হওয়ায় শ্রমিকদের চাপ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। বিশেষ করে চন্দ্রা এলাকা দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রী বেশি হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

মহাসড়কে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ জানায়, জনবল সংকটের মধ্যেই তারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী দায়িত্বে হাইওয়ে পুলিশের বড় একটি অংশ অন্যত্র নিয়োজিত থাকায় সীমিতসংখ্যক সদস্য দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হচ্ছে।

নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম জানান, নির্বাচনী দায়িত্বে হাইওয়ে পুলিশের প্রায় ৮৫ শতাংশ সদস্য চলে গেছেন। বাকি সদস্যরা দিনরাত টানা দায়িত্ব পালন করছেন। সব কারখানা একসঙ্গে ছুটি হওয়ায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে এবং মহাসড়কে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। তবে শ্রমিকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও যানজট ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ঈদের আগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই ভোগান্তি কমাতে।