‘বৈধতা’ ছিল না গ্যাস পাম্পের, মালিকের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারের কলাতলীতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনার মালিক নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর।
রোববার (০১ মার্চ) রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন মামলাটি করেছেন। সোমবার (০২ মার্চ) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আগুনের ঘটনার পর পরিদর্শন করে যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গ্যাস পাম্প করার জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সর্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেওয়া হয়নি, যা বিস্ফোরণ আইন অপরাধ।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়িসহ নানা প্রতিষ্ঠানে। আগুনে ৩০টি গাড়ি, ৪টি বাড়িসহ নানা অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে দগ্ধসহ আহত হন ১৫ জন। এর মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানিয়েছিলেন, গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে যেখানে চিকিৎসাধীন ৬ জনের মধ্যে আবু তাহের ৯০ শতাংশ, রহিম ৫০ শতাংশ, সিরাজ ৪০ শতাংশ, সাকিব ৩০ শতাংশ, মেহেদি আর মোতাহের ২০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছে।
এর মধ্যে রোববার (০১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে অগ্নিকাণ্ডে দ্বগ্ধ আবু তাহের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
আবু তাহেরের মরদেহ এখনও কক্সবাজার পৌঁছেনি। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকালে ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে স্বজনরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সভাপতি নছির উদ্দিন।
আগুনের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন জানান, গ্যাস পাম্পের মালিক রামু উপজেলার নুর আহমদ সিকদারের ছেলে নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমকে একমাত্র আসামি করে মামলা হয়েছে। বিস্ফোরক আইন-১৮৮৪ এর বিধি ৫ এর ৩(ক), ৩ (খ) এবং তরলীকৃত, পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিধিমালা, ২০০৪ এর বিধি ১১১ ধারা বাজার তৎসহ পেনাল কোড-১৮৬০ এর ৩০৪ ধারায় মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আসামিকে গ্রেপ্তারসহ আইনি প্রক্রিয়া চলছে।