ইতালির স্বপ্ন থেকে লিবিয়ার দুঃস্বপ্ন, দুই বছর পর মায়ের কাছে ফাহিম

ইতালি নেওয়ার প্রলোভনে লিবিয়ায় নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি হওয়া কক্সবাজারের পেকুয়ার এক যুবককে প্রায় দুই বছর পর দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ, ইন্টারপোল এবং লিবিয়া পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তিনি পরিবারের কাছে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।
ফিরে আসা যুবকের নাম নাবিদুল ইসলাম ফাহিম ওরফে বাপ্পু (২৩)। তিনি পেকুয়া পৌরসভার বাংলাপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীন সিকদার ও রাজিয়া সুলতানা দম্পতির ছেলে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোরে বাপ্পু দেশে পৌঁছান। সকাল ৬টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা তাকে গ্রহণ করেন।
স্বজনদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বাপ্পুকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রটি তাকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে।

ফেরত আসা যুবকের মা রাজিয়া সুলতানা জানান, বাপ্পুকে উদ্ধারের আশায় তারা তিন দফায় মোট ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু এরপরও চক্রটি আরও অর্থ দাবি করতে থাকে। একপর্যায়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়। জিম্মি থাকা অবস্থায় বাপ্পু দীর্ঘদিন মানবপাচারকারী চক্রের হাতে নৃশংস নির্যাতনের শিকার হন এবং মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।
এ ঘটনায় বাপ্পুর মা বাদী হয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মানবপাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যের নাম উল্লেখ করে পেকুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য ও তদন্তের সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি-ইন্টারপোল বাংলাদেশ) বিষয়টি ইন্টারপোলের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লিবিয়া পুলিশের এনসিবির কাছে উপস্থাপন করে। পরে বাংলাদেশ পুলিশ, ইন্টারপোল ও লিবিয়া পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাপ্পুর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয়।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মানবপাচার মামলাটি দায়েরের পর বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ইন্টারপোল এবং লিবিয়া পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে মাত্র সাত মাসের মধ্যে ভিকটিমকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এটি মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
