বিজিবির হস্তক্ষেপে কহুয়া নদীর বাঁধের কাজ স্থগিত করল ভারত

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হস্তক্ষেপে পরশুরামে কহুয়া নদীর ভারতীয় অংশে বাঁধের কাজ স্থগিত করেছে ভারত। রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে এশিয়া পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম। এর আগে শনিবার এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিল এশিয়া পোস্ট।
ভারতের বিলোনিয়াসংলগ্ন আমজাদনগরে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশের উত্তর কোলাপাড়ার খিলপাড়া এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। তারা দ্রুত বাংলাদেশের অংশের বাঁধ সংস্কার ও ব্লক বসানোর দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেনীর পরশুরাম উপজেলার উত্তর কোলাপাড়ায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ২০০৩ সালে প্রায় ২৫ হাজার সিসি ব্লক তৈরি করা হয়েছিল। গ্রামের রেললাইন সেতুর পূর্ব পাশে এসব ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধার মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা বাংলাদেশ অংশে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভারতের আপত্তিতে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ২০২৪ সালে বল্লামুখা বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিলে কোলাপাড়া ও নিজ কালিকাপুরে তৈরি করা সিসি ব্লকের কিছু অংশ সেখানে সরিয়ে নিয়ে ব্যবহার করা হয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ২১৬৩ নম্বর পিলারের উভয় পাশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের বিলোনিয়া-সংলগ্ন আমজাদনগরে দুই দশমিক ৩ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের পরশুরাম বাজার-সংলগ্ন উত্তর কোলাপাড়ায় ২৫০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারে উভয়পক্ষ সম্মত হয়। পরে সরকারি উদ্যোগে উত্তর কোলাপাড়া মাজারবাড়ি কবরস্থান-সংলগ্ন কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের ২৫০ মিটার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, এর বাইরে আরও প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ সংস্কার বাকি রয়েছে।
এদিকে এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর শনিবার বিকেলে পরশুরাম পৌরসভার উত্তর কোলাপাড়া এলাকা পরিদর্শনে যান পাউবো ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া, পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহমেদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা সরেজমিনে এলাকা ঘুরে এ বিষয়ে বিস্তারিত অবগত হন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে জানান, ব্লক স্থাপনের কাজ শুরুর আগে বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করার কথা ছিল ভারতের। পরে বিজিবি বিষয়টি জানার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। বর্তমানে কাজটি স্থগিত রয়েছে।
পাউবো ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা এ বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে বিষয়টি জেনেছি। ভারতীয় অংশে বাঁধে ব্লক স্থাপন করা হলে বাংলাদেশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার বিজিবি অধিনায়কের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের অংশে বাঁধের কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।