logo
Advertisement

লালমনিরহাটে দুই মন্ত্রীর সামনে বিএনপির দুপক্ষের হাতাহাতি, আহত ৫

লালমনিরহাটে দুই মন্ত্রীর সামনে বিএনপির দুপক্ষের হাতাহাতি, আহত ৫
লালমনিরহাটে জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

লালমনিরহাটে জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমানসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান এবং লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে উপস্থিত নেতাকর্মীরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট
লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে উপস্থিত নেতাকর্মীরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

দলীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল এবং তার চাচাতো ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে বিগত সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের কোন্দল রয়েছে। এর জেরে লালমনিরহাট-২ আসনে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাগে বিভক্ত।

সভা চলাকালে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী ও উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের দলীয় ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। এ সময় বাবুলের অনুসারীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিরোধিতার পাল্টা অভিযোগ তোলেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘাত ও তুমুল মারামারিতে রূপ নেয়। মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সামনেই পুরো অডিটোরিয়ামে চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুজ্জামান সবুজ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আখেরুজ্জামান স্বাধীনসহ পাঁচজন আহত হন। হামিদুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা সংঘর্ষের ভিডিও পরে মুছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর দীর্ঘ চেষ্টা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে থমথমে অবস্থা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবারও বড় কোন সংঘর্ষের আশংকায় শঙ্কিত নেতাকর্মীরা।

আহত হামিদুর রহমানের ছেলে নাসির ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, তার বাবা ভীষণ অসুস্থ। তাকে কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। মধ্যরাতে দলীয় মতবিনিময় সভায় গিয়ে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হককে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় উত্তেজনা হয়েছিল। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তাদের জানা নেই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত দেখতে পায়। ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকারে হামিদুল নামে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।