logo
Advertisement

গোপালগঞ্জে পাঁচ দিনে আ.লীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জে পাঁচ দিনে আ.লীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ
পদত্যাগের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের নেতার সংবাদ সম্মেলন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে গত পাঁচ দিনে দলটির দুই শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে ধারাবাহিক এসব পদত্যাগের ঘটনায় জেলাজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Advertisement

সবশেষ গত শুক্র ও শনিবার মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলায় চার নেতা পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে শনিবার সকালে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মুকসুদপুর পৌর আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এফ এম মামুন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে মুকসুদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এনায়েত ফকির দল ছাড়ার কথা জানান। তারা পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকার ঘোষণা দেন। একই দিন সন্ধ্যায় কাশিয়ানীর মহেশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক কাইয়ুম শেখ সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

গত ২৯ জুলাই কাশিয়ানী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে রাতইল ইউনিয়নের তিন নেতা, ১ আগস্ট মুকসুদপুর উপজেলার পশারগাতী ইউনিয়নের ১৬ জন নেতাকর্মী, ২ আগস্ট একই উপজেলার ৫১ জন এবং ৪ আগস্ট আরও ৪১ নেতাকর্মী পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগের ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শফিউর রহমান কবির মুন্সী বলেন, গত কিছু দিনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রায় ২০০ নেতাকর্মীর পদত্যাগের খবর শুনেছি। পদত্যাগ যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমার ধারণা, সবাই যে শুধু ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করছেন, বিষয়টি এমন নয়। কেউ কেউ হয়তো হতাশা কিংবা বর্তমান পরিস্থিতির কারণেও পদত্যাগ করছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর এভাবে দলত্যাগ করা তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।