সাহরির সময় মেঝেতে পড়ে ছিল গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ

কক্সবাজারে উখিয়া উপজেলায় সাহরির সময় ঘরের ভেতর এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ মিলেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার হয়।
মৃত জাজিদা আক্তার পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা এলাকার শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, গৃহবধূর ঘাড়ে ও থুঁতনিতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
গৃহবধূর শ্বশুর নুরুল বশর জানান, তার ছেলে শফিকুল স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা ঘরে খাকে। রমজান শুরুর ২-৩ দিন পর শফিকুল কাজের জন্য বান্দরবান চলে যান। গৃহবধূর শাশুড়ি রমজান শুরুর আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন। রমজানের শুরু থেকে ছেলের বউ তাদের জন্য সাহরি ও ইফতারি তৈরি করে দিতেন। প্রতিদিন ভোররাতে সাহরি তৈরি শেষ হলে খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন।
বুধবার গৃহবধূ তাদের ডাকেননি। সাহরির সময় শেষ হওয়ার অন্তত ১০-২০ মিনিট আগে গৃহবধূর শাশুড়ির ঘুম ভাঙে। তিনি গৃহবধূকে ডাকতে যান। তিনি ঘরের বাইরে থেকে দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে আলো জ্বালিয়ে গৃহবধূকে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখেন।
গৃহবধূরর বাবা নুরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ের স্বামী জুয়াসহ নানা অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিল। ঠিকমতো স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ দিত না। শ্বশুর-শাশুড়িও তার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করত। শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে তার মেয়ের সুসম্পর্ক ছিল না। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেক সময় বাবার বাড়ি চলে আসত।
উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাছির উদ্দিন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।