logo
Advertisement

মাদক নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ফরিদপুর
মাদক নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর
ভাঙচুর হওয়া পুলিশের পিকআপ ভ্যান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশের ব্যবহৃত একটি পিকআপভ্যান ভাঙচুর করে গাড়ির চাবি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর আহত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় স্থানীয় যুবক শাকিল ও তার কয়েকজন বন্ধু ইয়াবা সেবন করছিলেন। এ সময় টুলু মিয়া, সুমনসহ কয়েকজন ওই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে শাকিলের কাছে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর শাকিলের পক্ষের লোকজন টুলু মিয়াকে টাকা নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। টুলু সেখানে গেলে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলে টুলুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টুলু মিয়া পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড়ে আসেন। সেখানে আগের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুদিদোকানি বক্কার শিকদার ও মান্নানকে মারধর করে তারা চলে যান বলে অভিযোগ।

খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বক্কার শিকদারের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় টুলু মিয়াকে না পেয়ে তার বাবা রাজা মিয়া (৭০) ও স্থানীয় জয়নাল শিকদারকে (৬৫) মারধর করা হয়। পরে কয়েকশ লোক তাদের ঘিরে রাখেন বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রাজা মিয়া ও জয়নাল শিকদারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশের কাজে বাধা দেন।

একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের পিকআপভ্যানে হামলা চালায় এবং গাড়ির চাবি নিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর আহত রাজা মিয়া ও জয়নাল শিকদারকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু মৃধা বলেন, টুলু মিয়া ওমানে থাকেন এবং মাঝেমধ্যে দেশে এসে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবারের ঘটনার পর শনিবার সকাল ১০টার ফ্লাইটে তিনি আবার ওমানে চলে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

মিন্টু মৃধার দাবি, আগের ঘটনার দিন টুলুর ভাই নিলু মিয়া রামদা নিয়ে এলাকায় এসেছিলেন। তখন বক্কারের ছেলে লালচান তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এর জের ধরেই শুক্রবার বক্কার শিকদারকে মারধর করা হয় বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে বক্কার শিকদার ও টুলু মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, স্থানীয় আধিপত্য, মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা করে পিকআপভ্যানটি ভাঙচুর করা হয়। এতে গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে দুই পক্ষের কেউ এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

বিষয় :