logo

ভোলা/নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভোলার চরফ্যাশনে ককশিটভর্তি ইলিশ এনে বাজারে বরফ দিয়ে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও ভোলার চরফ্যাশন মাছ বাজারে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ককশিটের বাক্সে ইলিশ মজুত রেখে হাকডাক দিয়ে ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এভাবে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রির ঘটনায় বাজার তদারকি ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) চরফ্যাশন মাছ বাজারে গিয়ে ইলিশ বিক্রির এমন চিত্র দেখা যায়। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সরকারি বিধিনিষেধ অনুযায়ী, এ সময়ে ইলিশ আহরণ, মজুত, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন বাড়ানোই এ নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য। তবে চরফ্যাশনে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রির ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবেশ ও নদী-খালের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ফ্রেশার জেনারেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা তৌকিদ সাব্বির বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে কেবল নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখলেই হবে না; বরং বাজারে অবৈধভাবে ইলিশ মজুত ও বিক্রি বন্ধেও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, সরকারঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশ আহরণ, মজুত, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চরফ্যাশন মাছ বাজারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং খুব দ্রুতই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। আইন অমান্য করে ইলিশ মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।