logo

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ টাকা, মিলল ১৮ দেশের মুদ্রা

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ টাকা, মিলল ১৮ দেশের মুদ্রা
শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে পাওয়া অর্থ গণনা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগে এবার পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৪ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি গণনার সময় বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে মাজারের দানবাক্স ও ডেগে জমা পড়া অর্থ গণনা শুরু হয়। দিনব্যাপী গণনা শেষে সন্ধ্যায় সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, দিনভর গণনা শেষে ৮৮ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এক ভরি আট আনা স্বর্ণ ও তিন ভরি ১৩ আনা রুপা পাওয়া গেছে।

গণনার সময় ১৮টি দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। এসব মুদ্রার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ১৪ পাউন্ড, ভারতের ৭ হাজার ৬৪৭ রুপি, থাইল্যান্ডের ২০ বাত, সৌদি আরবের ৯৩ পয়সা, মালয়েশিয়ার ১১ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ ডলার, ওমানের ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ বাইসা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৬৫ দিরহাম, মালদ্বীপের ১৫ রুপি, কাতারের ১৭ পয়সা, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, বাহরাইনের ১০০ পয়সা, হংকংয়ের ১০ ডলার, ব্রুনাইয়ের ১ ডলার, নেপালের ৫৫ রুপি, পাকিস্তানের ১০০ রুপি, রাশিয়ার ৫০ রুবল এবং শ্রীলঙ্কার ৫০০ রুপি। মাজারের দানবাক্স ও ডেগ খোলা এবং অর্থ গণনার কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মাজার পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিরা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে হিসাবে প্রায় ৩৫ দিন পর শনিবার আবার দানবাক্স খোলা হয়।

দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়। এরপর ১১ জুলাই, ১৫ আগস্ট ও ১৯ সেপ্টেম্বর আরও তিন দফায় দানবাক্স ও ডেগ খোলা হয়। আগের চার দফায় মোট ২ কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ পাওয়া যায় বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এবার দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে মাজারে দর্শনার্থী ও ভক্তদের উপস্থিতি বেশি থাকায় আগের তুলনায় বেশি অর্থ জমা পড়তে পারে বলে আশা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিকে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সভায় দানবাক্সের টাকা নিয়মিত গণনার সিদ্ধান্ত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় করা হবে।