কুষ্টিয়ায় ডোবা থেকে বাকপ্রতিবন্ধীর মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে জিহাদ (১৩) নামের এক বাকপ্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত জিহাদ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর কারিগর পাড়ার বাসিন্দা হাসান মেকারের ছেলে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিহাদ তীব্র মানসিক ভারসাম্যহীন ও বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতেন। শিকল খুলে দিলেই সে যেকোনো দিকে এলোপাতাড়ি ছুটে চলে যেত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে জিহাদকে শিকলবন্দি অবস্থায় দেখে তার চাচা শিশুটির মাকে শিকল খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। চাচার অনুরোধে মা পায়ের শিকল খুলে দিলে জিহাদ খালি গায়ে বাড়ির এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করে। একপর্যায়ে সে সবার চোখের আড়ালে নিখোঁজ হয়। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিংও করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয়রা একটি পানের বরজের পাশের পরিত্যক্ত ডোবায় শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে তার বাবা হাসান মেকারকে খবর দেন। বাবা এসে মরদেহটি নিখোঁজ সন্তান জিহাদের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরিবারের প্রাথমিক ধারণা, শিকলমুক্ত হওয়ার পর শিশুটি কোনোভাবে ডোবার পানিতে পড়ে ডুবে মারা যায়।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, শিশুটি বাকপ্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। তাকে প্রায়ই শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। শিকলমুক্ত হয়ে সে পালিয়ে যায়। পরে ডোবা থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়।
