লুটেরাদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে : জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়ায় নির্বাচনি সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি আল্লাহতালাহ ইনসাফের সরকার গঠনের সুযোগ দিলে ওই সব লুটেরার পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে। সে অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা হবে। ইনসাফের ভিত্তিতে তখন সারা বাংলাদেশের উন্নয়নে ব্যয় হবে ইনশাল্লাহ।’
উন্নয়নকাজের জবাবদিহির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আর কেউ এক টাকার রাস্তা আট টাকায় গড়ার স্বপন দেখবেন না। আবার রাস্তা করেছে সঙ্গে সঙ্গে টান দিলে কার্পেটের মতো উঠে হাতের মধ্যে চলে আসে, সে রাস্তা আর বাংলাদেশে বসবে না। জনগণের অর্থের পাইপাই হিসাব জনপ্রতিনিধিরা দিতে বাধ্য থাকবেন।’
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের আয়ব্যয় প্রতি বছর জনগণের কাছে প্রকাশ করার কথা বলেছেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘোষণা দিয়েছি ১৩ তারিখ থেকে ইনশাল্লাহ আমাদের মহান প্রভু আমাদের একটা নতুন বাংলাদেশ দেবেন। সেদিন থেকে চাঁদাবাজ যারা, তাদের বলে দেব ওই কাজের দিন আজকেই শেষ।’
উদাহরণ দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘যত ধরনের অপরাধ দুর্নীতি আছে, আমরা কোনো অপরাধ-দুর্নীতির লেজ ধরে টানাটানি করব না। আমরা কান ধরে টান দেব ইনশাল্লাহ। কান থাকে মাথার দুই পাশে, মাথা ঠিক হলে সব ঠিক। মাথা হচ্ছে জাতির নেতৃত্ব। মাথা যখন পচে যায়, তখন শরীর আর কাজ করে না।’
আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিশুদ্ধ হয়ে ফিরে আসো, তোমাদেরও শিক্ষা-প্রশিক্ষণ দিয়ে তোমাদের হাতেও মর্যাদার কাজ তুলে দেব। যদি তারা আসে আলহামদুলিল্লাহ। যদি না আসে তাহলে যা করার দরকার তাই করা হবে। আর চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না ইনশাল্লাহ।’
‘আমাদের ৫৪ বছরের নেতৃত্ব নিজেদের সুস্থ মাথার প্রমাণ দিতে পারেনি। এ জন্যই জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে এরা বড়লোক হয়েছে, কিন্তু জনগণের যা পাওনা ছিল, জনগণ তা পায়নি।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পথ খুঁজে পাবে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যে যুবকদের নেতৃত্বে আমাদের বিপ্লব সফল হয়েছে, সেই যুবকরা বাংলাদেশের পথ দেখিয়ে দিয়েছে। ডাকসু থেকে শুরু জকসুতে এসে আপাতত থেমেছে। সব জায়গায় একই চিত্র।’
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ন্যায় ইনসাফের এ বাংলাদেশ যারা চায় না, তারা পুরানো বন্দোবস্ত চায়। যেনতেনভাবে একটা নির্বাচন চায়। সংস্কারের জন্য গণভোট আগে চায়নি। এরপর সবার যখন দাবি আসল, তখন বলল গণভোট মানি তবে তা এক দিনে হতে হবে। কিন্তু আমরা বলেছিলাম আগে গণভোট হোক, তারপর সাধারণ নির্বাচন হোক। তারা মানল না।’
‘এখন তাদের দাবি মেনে নিয়ে এক দিনে হলো, এখন বলল গণভোট আমরা মানি না, গণভোটের দরকার নাই। চতুর্দিক থেকে ঠ্যালা শুরু হয়েছে জনগণের। ঠ্যালার নাম বাবাজি। এখন আস্তে আস্তে শিশুর মতো মুখ ফুটতে শুরু করেছে গণভোটে হ্যাঁ বলেন,’ বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামী আগে থেকেই গণভোটে হ্যাঁর পক্ষে উল্লেখ করে দলের প্রধান শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আগেই বলে দিয়েছি গণভোটে হ্যাঁ বলব। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি।’
যুবকদের বেকার ভাতা বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘চব্বিশের গণবিপ্লবে একটিবারের জন্য একজন যুবকও বলেনি আমরা বেকার ভাতার জন্য লড়াই করছি। তারা বলেছিল, মেধা ও যোগ্যতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে। মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী আমাদের হাতে কাজ তুলে দিতে হবে। আমি দেশ গড়ার একজন কারিগর, কর্মচারী, কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অপমান করব না। তাদেরকে শিক্ষা প্রশিক্ষণ দিয়ে হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব। সেদিন তারাই গড়ে দেবে নতুন বাংলাদেশ। আর গর্ব করে বলবে আমিই বাংলাদেশ। এটা আমরা বাংলাদেশ। গর্বের সঙ্গে যুবকরা পরিচয় দিবে ইনশাল্লাহ।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এ নির্বাচনি সমাবেশে শফিকুর রহমান দক্ষিণ চট্টগ্রামের দলীয় এবং জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন।