স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটি খেয়ে আট শিক্ষার্থী অসুস্থ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অন্তত আট শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে টিফিনের সময় সরবরাহ করা পাউরুটি খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির একজন, পঞ্চম শ্রেণির একজন এবং চতুর্থ শ্রেণির ছয়জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাউরুটি বিতরণ করা হয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বমি বমি ভাবসহ শারীরিক অসুস্থতার বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা দ্রুত বাড়িতে ফিরে যায়। খবর পেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার সরাসরি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’ দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমানের এবং দুর্গন্ধযুক্ত ডিম ও পাউরুটি সরবরাহ করে আসছিল। আমরা বারবার অভিযোগ জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সেই বাসি ও নিম্নমানের খাবার খেয়েই বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ল।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম খাবারের মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরবরাহ করা পাউরুটিগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের। ধরলেই ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ছে, যা দেখে সহজেই বোঝা যায় এগুলো অনেক আগের তৈরি বা বাসি খাবার। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।
তিনি বলেন, যে আট শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে, তাদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তারা এখন অগের থেকে অনেকটা সুস্থ। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান গাক’র সিনিয়র পরিচালক মাহবুব আলম ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, তারা ‘বিস্কুট বিপণনী’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই পণ্যগুলো সরবরাহ করে থাকেন। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা ভুলের কথা স্বীকার করেছে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।