logo

রাঙামাটিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস

রাঙামাটিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস
রাঙামাটিতে গ্যাসের জন্য ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তীব্র জ্বালানি সংকটে অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির যোগাযোগব্যবস্থা। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে শহরের চারটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র একটিতে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, চারটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তিনটিতেই গ্যাস নেই। ফলে একটি স্টেশনে সিএনজি ও অটোরিকশার দীর্ঘ সারি। গ্যাস নিতে আসা সিএনজির লাইন এক কিলোমিটার ছাড়িয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালকরা।

সিএনজি চালক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় স্বাভাবিক আয়-রোজগার কমে গেছে। গ্যাস নিতেই বেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এই জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সিএনজি চালক মো. সবুর আলী বলেন, সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দুপুর পর্যন্ত গ্যাস পাননি। তার সামনে এখনো ৩০ থেকে ৪০টি গাড়ি রয়েছে। শেষ পর্যন্ত গ্যাস পাব কি না, তা জানি না।

তিনি আরও বলেন, দিনে প্রায় ১ হাজার টাকার গ্যাস হলে সারা দিন গাড়ি চালানো যায়। এখন ৩০০ টাকার করে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে দিনের অর্ধেক সময় গাড়ি চালানো যায়? বাকি সময় গাড়ি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে মালিকের টাকাও দিতে কষ্ট হচ্ছে।

আরেক চালক নূর নবী বলেন, গত দুই দিন পর এলপিজি গ্যাস পেয়েছেন। তাদের আয় কমে গেছে। দাম বাড়িয়ে হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক করে দিলে তাদের সুবিধা হবে এবং কষ্ট কমে আসবে।

মেসার্স হিল ভিউ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মহসিন বলেন, দুই হাজার লিটার এলপিজি পাওয়া গেছে। সেখান থেকে প্রতিটি গাড়িকে ৩০০ টাকার গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু তাদের কাছে সরবরাহ কম, তাই বাধ্য হয়ে পরিমাণও কমিয়ে দিতে হচ্ছে।

ভেদভেদী এলাকার মা পেট্রোলিয়ামের মালিক বিকাশ দে বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গাড়িতে এলপিজি দিয়েছি। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে আর এলপিজি পাওয়া যায়নি। আশা করছি, রোববার পাবর।