থামছে না আড়িয়ল বিলের জলাশয় ভরাট, কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি পরও মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক আড়িয়ল বিলে চলছে জলাশয় ভরাট। একইসঙ্গে বিলের চারপাশের উর্বর কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ট্রলারে করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীনগর উপজেলার পশ্চিম বাড়ৈখালী এলাকায় রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে প্রায় সোয়া একর আয়তনের একটি গভীর জলাশয়ের প্রায় অর্ধেক ভরাট করা হয়েছে। বাকি অংশেও চলছে ভরাটের কাজ। এছাড়া বিলের গাদিঘাট অংশে পানি প্রবাহের জন্য নির্মিত ব্রিজের মুখ বন্ধ করে বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের বাধার মুখে কিছুদিন এ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এখন আবারও রাতের আঁধারে ভরাটের কাজ চলছে। প্রতিরাতে বাল্কহেডে করে বালু এনে সারা রাত ড্রেজারের মাধ্যমে জলাশয়ে ফেলা হয়। শুধু ভরাটই নয়, বিলের চারপাশের উর্বর কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে অবৈধ ট্রলারে করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

জলাশয় ভরাটের সঙ্গে স্থানীয় মো. রমজানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ কাজে আজাদ দেওয়ান ও বালু ব্যবসায়ী মো. মকবুল হোসেনও জড়িত। তবে আজাদ দেওয়ান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভূমি অফিস থেকে ভরাটের অনুমতি রয়েছে—এমন কথা শুনে তিনি কাজটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। পরে ভূমি অফিস ড্রেজারের পাইপ উচ্ছেদ করার পর তিনি আর এর সঙ্গে যুক্ত নেই। বর্তমানে মকবুল হোসেন কাজটি করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে মকবুল হোসেন বলেন, টাকার বিনিময়ে ভরাট করা মাটির পরিমাণ ঘনফুট হিসেবে মেপে দেন তিনি। ভরাটের কাজে এর বাইরে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, রাতে একদিকে ড্রেজারের মাধ্যমে জলাশয়ে বালু ফেলা হয়, অন্যদিকে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ট্রলারে করে সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জলাশয় ভরাটকারী হিসেবে অভিযুক্ত মো. রমজান বলেন, ভরাটের অনুমতির জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। তবে এখনও অনুমতি পাননি। তবে অনুমতি না পেয়ে ভরাটের কাজ কেন চলছে, এ প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দেননি।

বাড়ৈখালী ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন খান বলেন, এর আগে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। পুনরায় ভরাটের বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
