logo

মিডিয়াতে যুদ্ধ দেখতাম, বাবা হারাব কল্পনাও করিনি

মিডিয়াতে যুদ্ধ দেখতাম, বাবা হারাব কল্পনাও করিনি

‘আমি এতদিন মিডিয়াতে যুদ্ধ দেখতাম, আজ যে এগুলো ফেইস করব, এটা কখনো কল্পনা করি নাই। কালকে পর্যন্ত আমার বাবা ভিডিও কলে আমার সঙ্গে কথা বলছিল। আমি কীভাবে বিশ্বাস করব যে বাবা নাই।’

কান্নাজড়ানো কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল তাসমিম তামান্না। তিনি বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি আবুল মহসিন তারেকের একমাত্র সন্তান।

স্থানীয় সময় রোববার (১ মার্চ) রাত ২টার দিকে বাহরাইনের আসরি শিপ ইয়ার্ডে একটি ট্যাংকারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তারেক নিহত হন। তারেক ওই ট্যাংকারে ডিউটিতে ছিলেন। তিনি ২৭ বছর ধরে বাহারাইনে কাজ করছেন। 

হালিশহরের বউবাজার মোড়ের পাশের কেতুরা মসজিদ গলিতে থাকে তারেকের পরিবার। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সে বাসায় গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা ভিড় জমিয়েছেন। 

তারেকের মামাতো ভাই চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, তারেক দুই বছর পর পর দেশে আসতেন। পরিবারের প্রতি খুব যত্নবান ছিলেন। বিদেশে থাকলেও প্রায় সারাদিন পরিবারের সঙ্গে যুক্ত থাকতেন। আর সব কিছুই ছিল পরিবারকে ঘিরে, বিশেষ করে ১৭ বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে তামান্নাকে ঘিরে। খুব গোছালো একটি পরিবার ছিল।

তামান্না জানিয়েছে, সাধারণত ১৮-১৯ মাস পরপর তার বাবা দেশে আসতেন। এবার একটু দেরি হচ্ছিল। সর্বশেষ তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এসেছিলেন। সে হিসেবে এই জানুয়ারিতে তার দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু মাঝে হজ করায় এবার ছুটি কিছুটা পিছিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন ঈদে বা ঈদ শেষ করে দেশে আসবেন।

তামান্নার এখন একটাই চাওয়া, শেষবারের মতো বাবাকে দেখা। সে বলে, আমি আমার বাবাকে দেখতে চাই। বাবাকে যত দ্রুত সম্ভব দেশে আনা হোক। কোনো জটিলতা ছাড়াই যেন বাবা দেশে ল্যান্ড করতে পারে। এখন তো শুনতেছি ফ্লাইটগুলো অফ। এই বিষয়টা যেন একটু দেখে, এটাই সরকারের কাছে আমার দাবি।