logo
Advertisement

দলের বিজয়েই শেষ নয়, আসল বিজয় আল্লাহর সন্তুষ্টিতে: আজহারুল ইসলাম

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
খুলনা, খুলনা
দলের বিজয়েই শেষ নয়, আসল বিজয় আল্লাহর সন্তুষ্টিতে: আজহারুল ইসলাম
খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে দলটির নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, শুধু দল ক্ষমতায় গেলেই হবে না, প্রতিটি ব্যক্তিরও বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। দলের বিজয় হতে পারে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন, আর ব্যক্তির বিজয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ। তাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের আমল ও আখিরাতের সফলতার জন্য কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আজহারুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে মুসলমানদের সঙ্গে কুরআনের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে গেছে। শুধু মুখে ইসলামের কথা বললে হবে না, জীবনে তার বাস্তব প্রয়োগ থাকতে হবে। মৌখিক সাক্ষ্যের পাশাপাশি আমাদের বাস্তব সাক্ষ্য দিতে হবে; মানুষের কথা ও কাজের মধ্যে স্পষ্ট মিল থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সংখ্যায় বিপুল হলেও মুসলমানরা আজ বিশ্বের নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বে প্রায় ২০০ কোটি মুসলমানের বিপরীতে ইসরায়েলি ইহুদিদের সংখ্যা কম হলেও তারা বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ মুসলমানদের মধ্যে ঈমানের শক্তি ও বাস্তব চেতনার ঘাটতি।

ইসলামের প্রাথমিক যুগের উদাহরণ টেনে জামায়াতের এই নায়েবে আমীর বলেন, মদিনায় মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠার সময় মুসলমানদের জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। মসজিদে আজকের মতো জাঁকজমক, দামি কার্পেট বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা কিছুই ছিল না; কিন্তু তবুও তখন পারস্য ও রোমের মতো শক্তিশালী সাম্রাজ্যগুলো মুসলমানদের ভয় করত। আর এখন মুসলমানদের অনেক মসজিদ অত্যাধুনিক, পোশাক-পরিচ্ছদ ও জীবনযাপনে অনেক আড়ম্বর এসেছে; কিন্তু সেই আগের ঈমানি শক্তিটি আর নেই।

তিনি আরও বলেন, মানুষ এখন কেবল দুনিয়াবি সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। কে কত বেশি বাড়ি করবে, কে কত বেশি সম্পদের মালিক হবে—এসব নিয়েই সবার ব্যস্ততা বেড়েছে। অথচ ইসলামে দুনিয়ার বৈধ সম্পদ অর্জন নিষিদ্ধ নয়। সম্পদ থাকলেই তো যাকাত ও দান-সদকা করা সম্ভব হয়। তবে সম্পদ অর্জনের জন্য যেকোনো অন্যায় পথ বেছে নেওয়া যাবে না। মূলত প্রতিযোগিতা করতে হবে আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের জন্য।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, দলের বিজয় মানেই কিন্তু ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিজয় নয়। কোনো ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে ভোট চুরি বা অনৈতিক পদ্ধতি অবলম্বন করে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনে, তবে তাতে তার নিজের ব্যক্তিগত মুক্তি মিলবে না। একজন চোর যেমন কোনো ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা চুরি করে এনে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেও তার চুরির অপরাধটি বৈধ হয়ে যায় না; ঠিক একইভাবে দলের স্বার্থে অন্যায় করলেও সেই অন্যায়ের দায় শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।

জামায়াতে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্য শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা। পাশাপাশি প্রতিটি কর্মীকে নিজের আখিরাতের সফলতার জন্যও নিরলস কাজ করে যেতে হবে। কারণ, শেষ বিচারে আল্লাহর কাছে প্রত্যেক মানুষকে আলাদাভাবে তার নিজস্ব কাজের হিসাব দিতে হবে।

কুরআনের সূরা আস-সফের আয়াত উদ্ধৃত করে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, আল্লাহ এমন একটি ব্যবসার কথা বলেছেন, যা মানুষকে কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করবে। সেই ব্যবসার মূলধনই হলো আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি পূর্ণ ঈমান আনা এবং আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা। এখানে শুধু অর্থ নয়, মানুষের মেধা, শক্তি, সময়, যোগ্যতা ও সব সামর্থ্যও আল্লাহর পথে উৎসর্গ করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি এবং সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি।

সম্মেলনে আরও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান।